• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে রাখতে চায় বিএনপি

   ৪ জানুয়ারী ২০২৫, ০৫:৪৩ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে দ্রুততম সময়ে নির্বাচনে জন্য চাপ অব্যাহত রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত বিএনপির। একইসঙ্গে দল ও অঙ্গ-সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারে ঘোষিত ৩১ দফায় মনোযোগ দেবে দলটি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ২০২৫ সাল বিএনপির বেশি কিছু করা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম ও তাদের নীতি কি হয় সেটা পর্যবেক্ষণ রাখা। এক্ষেত্রে সরকার যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে, সেটার সঙ্গে যুক্ত হবে বিএনপির। আর সরকার যদি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না করে, তাহলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে চাপ প্রয়োগ করা হবে। তবে, সেক্ষেত্রে সরকার সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে জড়াবে না দলটি। অর্থাৎ বক্তব্য, বিবৃতি এবং মাঠ পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করে বারবার ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচনে দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,  জনগণের প্রত্যাশা হচ্ছে, সরকার নির্বাচন কেন্দ্রীয় প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুততম সময়ে নির্বাচন দেবে। জনগণের রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির একই প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমাদের সব সময় ৩০০ আসনে ভোটের প্রস্তুতি থাকে। বিগত নির্বাচনগুলোতে আমরা আমাদের জোট সঙ্গীদের কিছু আসনে সমঝোতা হয়েছিল, সেইসব আসনে আমরা প্রার্থী দেয়নি। এবার এখন পর্যন্ত আমরা ৩০০ আসনের ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনের সময় যারা আমাদের সঙ্গে থাকবে তাদের বিষয়ে তখন সিদ্ধান্ত হবে।

রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি ৩১ দফা দিয়েছে বলে উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, সেটা তো আমাদের কর্মপরিকল্পনার থাকবেই। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান আছে। দলের যেসব জায়গার কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেইগুলো গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের যেসব অঙ্গসংগঠনের কমিটির শেষ হয়ে গেছে সেইগুলো করা হচ্ছে। সেটা নতুন বছরেও চলমান থাকবে।

বিএনপির সূত্র বলেছেন, একটা বিষয় এখন পরিষ্কার নয় যে সরকার আগে জাতীয় নির্বাচন নাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেবে। দেশের একটা পক্ষ চাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাদের ভাবনায় নেই। তাই নির্বাচন কেন্দ্রিক সরকারের নীতির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বিএনপিকে। সেটার ওপর নির্ভর কবরে বিএনপির আগামী দিনের পরিকল্পনা কী হবে।

২০২৫ সালে বিএনপির প্রত্যাশা হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা বলে উল্লেখ করে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের দল হিসেবে বিএনপির করণীয় হচ্ছে মানুষের তার ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। জনগণ যাতে তাদের ভোট দিয়ে তাদের সরকার নির্বাচিত করতে পারে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নানা ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে দীর্ঘদিনের দুই মিত্র দল বিএনপি ও জামায়াত। বক্তব্য-বিবৃতিতে একে-অপরের আক্রমণে লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে। মাঝখানে কিছুদিন বিএনপি ও জামায়াতের কথার বাহাস বন্ধ থাকলে, এখন আবার শরু হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা কি ছিল, সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী জামায়াত কীভাবে দেশপ্রেমিক হলো সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির নেতারা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ৫ আগস্টের পরে জামায়াত প্রথমে বিএনপিকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছিল। তাদের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি শুধু সেই সব কথার জবাব দিয়ে আসছে।

তবে, বিএনপির এক নেতা বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখনি সিরিয়াসলি দেখার মতো সময় হয়নি। আপাতত আমার কাছে মনে হচ্ছে, উভয় পক্ষই একে-অপরকে চাপে রেখে কে কতটা সুবিধা আদায় করে নিতে পারে সেই চেষ্টা করছে।


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৭০ শতাংশ খালাস, সাজার হার ৩ শতাংশ!
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৭০ শতাংশ খালাস, সাজার হার ৩ শতাংশ!
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল : আলোচনায় উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল : আলোচনায় উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
বাস্তবতা এখনো জটিল, অনিশ্চয়তার অন্ত নেই
আজ মহান মে দিবস বাস্তবতা এখনো জটিল, অনিশ্চয়তার অন্ত নেই