বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০ দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন শুল্কের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন শুল্ক কাঠামো ঘোষণা করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ 'পারস্পরিক' শুল্ক বাতিল করে দেয়। এর পর বৈশ্বিক শুল্ক নীতি পুনর্বহালের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস নতুন এ উদ্যোগ নেয়।
ফেডারেল রেজিস্টারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ এ শুল্কের আওতায় আসবে। তবে তেল, গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্যসহ বেশ কয়েকটি পণ্য এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে। নতুন শুল্কও একই সময় থেকে কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, নতুন এ পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলায় সহায়ক হবে এবং বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
নতুন নীতির আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এ তালিকায় চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হচ্ছে। তবে বেইজিং এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া
নতুন শুল্ক ঘোষণার পর কয়েকটি দেশ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেন, নরওয়ের বিরুদ্ধে এ শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। কারণ, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে দেশটিতে ইতোমধ্যে কঠোর নীতিমালা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এ শুল্ককে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এদিকে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে শুল্কসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে কানাডা।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/আ









মন্তব্য