• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ দল, আছে দেশের তৈরি জার্সি

ভিওডি স্পোর্টস ডেস্ক    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ পি.এম.
ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের গায়ে থাকা কিছু জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায়। ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের গায়ে থাকা কিছু জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায়। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে এখনো বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের দেখা না মিললেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসরে অন্য এক পরিচয়ে জায়গা করে নিয়েছে দেশ। মাঠে লাল-সবুজের পতাকা না ওড়ালেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের গায়ে থাকা জার্সির একটি অংশ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের কারখানায়। ফলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ এখন শুধু পোশাক শিল্পের পরিচয় নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও দেশের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে ম্যাচ জার্সি, ট্রেনিং কিট, জ্যাকেট, শর্টসসহ নানা ধরনের স্পোর্টস অ্যাপারেল। বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে এসব পণ্যের ব্যবহার দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি এ শিল্পে কাজ করেন এবং আরও কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

একসময় সাধারণ পোশাক উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকলেও গত দুই দশকে বাংলাদেশ উচ্চমূল্যের স্পোর্টসওয়্যার, পারফরম্যান্স অ্যাপারেল এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পোশাক তৈরিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার সক্ষমতার কারণে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা ক্রমেই বাড়ছে।

বর্তমানে অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, হামেল, নিউ ব্যালেন্স, ম্যাক্রন এবং ক্যাপেলি স্পোর্টসসহ বিশ্বের অনেক পরিচিত ক্রীড়া ব্র্যান্ড বাংলাদেশে তাদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক উৎপাদন করছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দল, পেশাদার ক্লাব এবং সমর্থকদের জন্য বিপুল পরিমাণ জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী তৈরি হয়। যদিও ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কারণে সব সময় কোন দেশের জার্সি কোন কারখানায় তৈরি হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্পোর্টস অ্যাপারেল বাংলাদেশের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদিত হয়।

চলতি বছরের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এবার নিশ্চিতভাবে একটি তথ্য সামনে এসেছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক ক্রীড়া ব্র্যান্ড ক্যাপেলি স্পোর্টস-এর জন্য ঢাকার তুরাগে অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড (জিএমএ) কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি উৎপাদনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার ফ্যান জার্সি রপ্তানি করেছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার বড় স্বীকৃতি এটি।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন কেবল সাধারণ পোশাক উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নেই; উচ্চমানের স্পোর্টস অ্যাপারেল তৈরিতেও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তার ভাষ্য, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সি ব্যবহার দেশের শিল্পখাতের জন্য গর্বের বিষয়। এ ধরনের অর্ডার রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্য সংযোজিত পোশাক উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে বিপুল পরিমাণ জার্সি ও স্পোর্টস অ্যাপারেলের অর্ডার দেয় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো। এসব অর্ডার বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম বেড়ে যায়।

এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে শুধু কারখানাতেই নয়; মান নিয়ন্ত্রণ, মার্চেন্ডাইজিং, প্যাকেজিং, পরিবহন, বন্দর পরিচালনা এবং লজিস্টিকস খাতেও কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়। ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে এর সুফল পৌঁছে যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্পোর্টস অ্যাপারেল সাধারণ পোশাকের তুলনায় বেশি মূল্য সংযোজন করে। তাই এই খাত সম্প্রসারিত হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পেশাদার ক্রীড়ার বিস্তার এবং অ্যাথলেজার পোশাকের জনপ্রিয়তার কারণে স্পোর্টসওয়্যার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এই পরিবর্তিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয়, দক্ষ জনশক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারখানার কারণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বছরগুলোতে এই বাজার আরও বড় হবে। ফলে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপারেল বাজারে আরও বড় অংশীদার হতে পারবে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব কারখানা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীদের কারণে বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্যের ক্রীড়া পোশাক তৈরিতেও বিশ্ববাজারে নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে এই খাতে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সির ব্যবহার দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।

তার মতে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন বাংলাদেশকে শুধু সাধারণ পোশাক উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং উচ্চমানের স্পোর্টস অ্যাপারেল তৈরির নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবেও দেখছে।

তিনি বলেন, এর ফলে নতুন রপ্তানি আদেশ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ পুরো মূল্যশৃঙ্খলে কর্মসংস্থানের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল
নতুন বিতর্কে আর্জেন্টিনা, তদন্ত চায় ব্রিটিশ সরকার
ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা-স্পেন: লড়াই হবে বাঘ-সিংহে
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে স্থান পাওয়া বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফিফার পেজে বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের ছবি