তামাক নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব নয়, দ্রুত বিধিমালা চায় সংগঠন
সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আইনটির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর অবসর ভবনে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডরপ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় সমিতির প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম অংশ। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জাতি গড়ে তুলতে তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সচিব (অব.) মো. শামসুল আলম খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)-এর ওপর কর আরোপের ফলে এসব নতুন নিকোটিনজাত পণ্য বাজারে প্রসারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সময়োপযোগী ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমিতির পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এ বাস্তবতায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নতুন ও উদীয়মান নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বক্তারা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) পাস করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।
ভিওডি বাংলা/এমআই/এমএস









মন্তব্য