• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এ.এম.
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রাণহানি প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৯৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। একই সঙ্গে অন্তত ১৩ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে এবং গোটা জাতি এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় শহর লা গুয়ারিয়া। সেখানে অসংখ্য বহুতল ভবন ও আবাসিক স্থাপনা ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ভবনের দেয়ালে ‘D’ চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে। এর অর্থ হলো, সেখানে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।

স্পেন থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী দলের সমন্বয়কারী হাভিয়ের রোডস জানান, যেসব স্থানে জীবিত মানুষের অস্তিত্বের সম্ভাবনা থাকে, সেসব জায়গাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সীমিত সময় ও সরঞ্জামের কারণে উদ্ধারকর্মীদের অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

তবে ভয়াবহতার মধ্যেও কিছু অলৌকিক ঘটনা আশা জাগাচ্ছে। মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও শিশুটির বেঁচে থাকা উদ্ধারকর্মীদের বিস্মিত করেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের ৭২ ঘণ্টার বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

লা গুয়ারিয়া অঙ্গরাজ্যের কারাবালেদা শহরে নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজতে থাকা হোসে রাফায়েল নামের এক ব্যক্তি বলেন, এখন আর মনে হয় না কেউ ফিরে আসবে। তার কণ্ঠে ছিল হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি।

এদিকে একটি ধসে পড়া ভবনে অনুসন্ধান চালিয়ে এক মার্কিন উদ্ধারকর্মী স্থানীয়দের জানান, সেখানে জীবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্বজনদের খুঁজতে থাকা মানুষজন। কারণ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শব্দ শুনে অনেকে এখনও আপনজনদের জীবিত থাকার আশা করছিলেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির অবকাঠামো আগে থেকেই দুর্বল ছিল। ফলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

মানবিক সংকটও দ্রুত বাড়ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লা গুয়ারিয়ার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১৮ বছর বয়সী তরুণ দানিয়েল আরমাস বলেন, খাবারের জন্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। অনেক সময় সামান্য খাবার নিয়েও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

দুর্যোগের সুযোগে চুরি ও লুটপাটের ঘটনাও বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সরানোর অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধি লিয়া পোগগিও বলেন, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক। প্রতিদিন আরও বেশি মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। অনেক পরিবার খোলা জায়গা কিংবা পার্কিং এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

লা গুয়ারিয়ায় একটি বহুতল ভবন ধসে যাওয়ার পর পরিবার নিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া ফাতিমা বেরেতোরান বলেন, প্রথম কয়েকদিন তারা কোনো সহায়তা পাননি। পরে স্বেচ্ছাসেবকেরা পানি ও কিছু খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।

মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসছেন স্থানীয় তরুণ-তরুণীরাও। আইসমার লোপেজ নামের এক তরুণী আশ্রয়কেন্দ্রে নিজ হাতে রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, নিজের খাবার খেতেও এখন অপরাধবোধ হয়, কারণ কোথাও না কোথাও কেউ হয়তো অনাহারে আছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। সংস্থাটি আগামী তিন মাসে প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে ৫ কোটি ডলার তহবিল চেয়েছে।

এরই মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ চাপের মধ্যে রয়েছে। ভূমিকম্পের আগেই দেশটিতে টিকাদানের হার কম ছিল। ফলে হাম, ডিপথেরিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক উপগ্রহ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান
খামেনির জানাজা ও দাফন উপলক্ষে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ছবি: সংগৃহীত
৯০ দেশের প্রতিনিধি খামেনির শেষ বিদায়ে যোগ দেবেন
সদ্যজাত শিশু
জন্মহার বাড়াতে নতুন উদ্যোগ, মা-বাবারা পাচ্ছেন বেতনসহ ছুটি