• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অণ্ডকোষ চেপে ভয়াবহ নির্যাতন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেই এমডি

বরিশাল প্রতিনিধি    ৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে এক ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর নির্মম নির্যাতন ও জোরপূর্বক চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বরিশালের অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের এই এমডি।

ভুক্তভোগী আজিজ হাওলাদার বলেন, "অণ্ডকোষ এমনভাবে চেপে ধরেছে যে আমি শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম। এরপর আমাকে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়। আমাকে নিচে ফালাইয়া আমার বুকে পাড়া দিয়া, গলা পাড়া দিয়া ধরে। তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করে এবং বলে যে, আমাদেরকে চেক দে, চেক দে। আমি চেক দেব কেন? তবে ওই অবস্থায় জীবন বাঁচানোটাই বড় মনে হইছে।"

ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে। তবে ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় রবিবার মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, "ওই অবস্থায় জীবন বাঁচানোটাই বড় মনে হইছে। যার জন্য আমি আমার ড্রয়ার থেকে চেক বের করলাম। বললাম যে, ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি চেক তো বের করতে হবে, তারপর তো চেক দেব। তারপর আমাকে ছাড়ল। আমার পিওন আইসা আমাকে ধরে উঠাইল। উঠাবার পরে আমি ড্রয়ার থেকে চেক বের করলাম। সে প্রথমে একটা ব্লাঙ্ক চেক নিল, আর একটা চেক নিল পরে লেখাইয়া— ৭০ লক্ষ টাকা। এরপরে তার পকেট থেকে দুই সেট স্ট্যাম্প বের করল। এক সেটে তিন পাতা করে, মোট ছয়টা পাতায় আমার স্বাক্ষর নিল, আমার সিল নিল। নিয়া আমাকে বলল যে, এখন আমাদের সাথে থানায় যাবি। যাইয়া সালিশ করবি যে আমি তোর কাছে টাকা পাই, সালিশ হবে থানার মাধ্যমে। আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে, থানায় বইসা সালিশ হবে।"

তিনি জানান, প্রথমে থানায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও পরে জোর করে তাকে নেওয়া হয়। "না, তোর থানায় যেতেই হবে," এমন চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে থানায় নিয়ে গিয়ে অভিযোগ দেওয়া হয় এবং রাত আটটায় সালিশের সময় নির্ধারণ করা হয় বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগী আরও বলেন, থানায় পুনরায় মবের শঙ্কায় তিনি শুরুতে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, "এই যে আমার রুমে মব হইছে বা যে জোরপূর্বক ছয়-সাতজন এসে... ওখানে আমি কিছুই ব্যক্ত করি নাই। কারণ আমার জীবনের নিরাপত্তা ছিল না। আমি যদি ওখানে বলতাম, তারা থানায়ও হয়তো আমাকে মব করত। সেই ভয়ে আমি ওখানে কিছু বলি নাই।"

ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি তিন-চারদিন এক প্রকার বিমর্ষ অবস্থায় ছিলাম। এমন ঘটনা, ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমি কাউকে জানাইতে পারতেছিলাম না, ভয় পাইতেছিলাম। সর্বশেষ এক বড় ভাই, আত্মীয়- আমি তার শরণাপন্ন হইলাম। সে বলল যে, সালিশ-টালিশ যাই হোক, যেহেতু চেক নিছে, স্ট্যাম্প নিছে, তুমি আগে মামলায় যাও।"

তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনার পেছনে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্য ছিল। তার ভাষায়, "আমার কাছে তার কোন লেনদেন নাই। সে আমার ব্যবসার সাথে ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটা তিন বছর আগে। তার সাথে আমার লেনদেন ক্লিয়ার হয়ে গেছে।"

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন বলেন, "আসলে তাদের ভিতরে একটা দ্বন্দ্ব ছিল। একটা ডেভেলপার কোম্পানি তারা নিজেরা চালাত, তাদের ভিতরে আর্থিক ঝামেলা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটা ঘটে থাকতে পারে। আমরা নিবিড়ভাবে এটা খতিয়ে দেখছি এবং যারা এটার সাথে জড়িত, যে হামলায় অংশগ্রহণ করেছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব দ্রুতই আপনারা এর ফলাফল দেখতে পাবেন বলে আশা করছি।"

ভিওডি বাংলা/এমএস  


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বিচারের রায়ে মুছে যাবে জুলাইয়ের রক্তের দাগ: শ্রম প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
রিকশাচালককে পিটিয়ে ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য আটক
ছবি: সংগৃহীত
ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে স্বাক্ষর আদায়, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার