• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

পণ্য খালাসে দেরি, এলসিএল কার্গোতে চার গুণ জরিমানা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পি.এম.
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) এলসিএল কার্গো থেকে নির্ধারিত সময়ের পর পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে এখন থেকে চার গুণ বেশি সংরক্ষণ চার্জ গুনতে হবে আমদানিকারকদের। দীর্ঘদিন ধরে শেডে পণ্য পড়ে থাকায় কার্যক্রমে জট তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একাধিক আমদানিকারকের পণ্য একসঙ্গে একটি কনটেইনারে পরিবহন করা হলে তাকে এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) কার্গো বলা হয়। এসব পণ্য বন্দরের শেডে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা নিজ নিজ মালামাল খালাস করে নেন।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও অনেক আমদানিকারক সময়মতো পণ্য ছাড় না করায় শেডে পণ্যের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে টার্মিনালের কার্যক্রম সচল রাখতে বিলম্ব ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১০ দিনের পরও শেডে পণ্য রাখা হলে প্রতিদিন প্রতি টনে ২৭২ টাকা সংরক্ষণ চার্জ দিতে হবে। আগে একই ক্ষেত্রে দৈনিক প্রতি টনে ৬৮ টাকা পরিশোধ করতে হতো। নতুন এ হার ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

আরএসজিটির বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, “এলসিএল কার্গো রাখতে হয় শেডের ভেতর। ২৫-৩০ শতাংশ আমদানিকারক নির্ধারিত সময়ের পর দেড় থেকে তিন মাস পর্যন্ত পণ্য শেডে রেখে দেন।

“এতে শেডে পণ্যের স্তুপ জমে যাচ্ছে। এলসিএল কনটেইনার খুলে পণ্য আমদানিকারকদের দিতে হয়। এভাবে পণ্য জমে থাকলে নতুন আসা রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বন্দরের কার্যক্রমের গতি ধীর হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দৈনিক মাত্র ৬৮টাকা চার্জের কারণে কেউ কেউ পণ্য এখানেই রেখে দিচ্ছেন। এক মাস আগেও আমার নোটিশ দিয়েছি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোন সুফল মিলছে না।”

চার্জ বৃদ্ধি রাজস্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, “এলসিএল কার্গো আমাদের টার্মিনালের মোট কার্গোর মাত্র ২ শতাংশের মত হবে। আয় বাড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো কর্মক্ষমতা ঠিক রাখা।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শিডিউল ট্যারিফ রুলস অনুসারে নির্ধারিত সময়ের পরেও শেডে পণ্য রাখা হলে পেনাল্টি চার্জ করা যায়।

“কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে শেডে পণ্য রেখে দিয়েছেন। এটা তাদের চাপ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে।”

তিনি মনে করেন, বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল রাখতে বৃহত্তর স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২২ বছরের চুক্তির আওতায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই বছরের জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে পিসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতাসম্পন্ন এই টার্মিনালে ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। ওই বছরে টার্মিনালে ৭৮টি জাহাজ ভিড়েছে। এর মধ্যে রপ্তানি কনটেইনার ছিল ৯৩ হাজার ৩৪০ টিইইউস এবং আমদানি কনটেইনার ৬১ হাজার ২২৪ টিইইউস।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
জুলাইয়ের আগের দৃশ্যই এখনো দেখছি: সারজিস আলম
ফাইল ছবি
থানা থেকে পালানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নারী আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
শালিখায় যুবদল নেতা বহিষ্কার