• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

রাখাইন সংঘাতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    ৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও সীমান্তপথে চোরাচালান ঠেকাতে স্থল ও নৌ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)  বিকেলে টেকনাফ-২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়। একই সময় নাফ নদীতেও নৌ টহল জোরদার করা হয়। টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাতে মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত শোনা যায়। বৃহস্পতিবার সকালেও আবার বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প ভেবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তের ওপারের বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকালে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের শিখাও দেখা যায়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নাফ নদীতে অনেক জেলেও মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটি লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্তের ওপারের গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ধাপে ধাপে রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং ও রাথেডংসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকাকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আবারও বিমান ও স্থল হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আরাকান আর্মি ও কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
গ্রেপ্তারের পর আ.লীগ কর্মীকে ছিনিয়ে নিল জনতা
ছবি: সংগৃহীত
মাকে কলাবাগানে নিয়ে হত্যা করে ছেলে
ছবি: সংগৃহীত
মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর ফেরি ৩ দিনের জন্য বন্ধ