• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মাকে কলাবাগানে নিয়ে হত্যা করে ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি নির্জন কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের আট দিন পর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

মো. জনি ছেংগারচর পৌর এলাকার মুল্লুক মাঝির কান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে একপর্যায়ে মো. জনি নামে এক ব্যক্তির ওপর সন্দেহ করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন তিনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন। গ্রেপ্তার জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।

মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এ মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তদন্ত টিম দিন-রাত পরিশ্রম করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ভিওডি বাংলা/ বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফেসবুকে প্রেম, দুই তরুণীকে বিয়ে করতে তিন যুবকের এলাহী কাণ্ড
ফেসবুকে প্রেম, দুই তরুণীকে বিয়ে করতে তিন যুবকের এলাহী কান্ড
টেকনাফে ভারী অস্ত্র ও মাদকের বড় চালান জব্দ
টেকনাফে বিজিবির অভিযান, ভারী অস্ত্র ও মাদকের বড় চালান জব্দ
ছবি: সংগৃহীত
প্রেমের জেরে শিক্ষার্থী হত্যা, দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড