হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে দায়িত্ব ছাড়ুন: বিরোধীদলীয় নেতা

শরীফ ওসমান হাদী, আবু সাঈদসহ আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার বর্তমান সরকারকেই সম্পন্ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার যদি বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শরীফ ওসমান হাদী, আবু সাঈদসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে এই সরকারকে। যদি বিচার করতে না পারেন, তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন, পরবর্তী সরকার এসে বিচার করবে।’
সমাবেশে তিনি গণভোটে পাওয়া জনরায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব আমরা।’ পাশাপাশি তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দেশে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, ‘সকল দুর্নীতিবাজরা আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং করে পরাজিত করেছে। পরবর্তীতে আর কোনো দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং ভবিষ্যতে তাদের আর ক্ষমতায় ফিরতে দেওয়া হবে না।
বক্তব্যে দেশের প্রতিটি নারী ও পুরুষকে ‘আমাদের সৈনিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষই এই দেশের প্রকৃত শক্তি। তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। রংপুর অঞ্চলের কৃষি ও জীবিকা তিস্তা নদীর ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।’
কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। নইলে কৃষিনির্ভর এই দেশের অর্থনীতি টিকবে না।’
সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লব শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মতো রুটিন কাজের জন্য হয়নি। তাদের দাবি, রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনাই ছিল ওই আন্দোলনের লক্ষ্য। গণভোটে জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হলে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য