• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিল ইসলামী আন্দোলন: চরমোনাই পীর যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনেই উত্থান, সেই প্রশ্নফাঁসের জেরেই ধর্মেন্দ্রর বিদায় ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হলেন প্রহ্লাদ জোশী কে এই অভিজিৎ, কীভাবে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেন সাবেক এমপি বদির বোন জামাই ইয়াবাসহ আটক বধির ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা চাইলেন ডিএসসিসি প্রশাসক মেধাবী শিক্ষার্থী নীরবের পাশে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১৫ বছরেও চাকরি ফেরেনি, পুনর্বহালের দাবিতে ১,৫২২ পুলিশ সদস্য মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান রাহুল গান্ধীর

কে এই অভিজিৎ, কীভাবে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেন

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ছয়টি শব্দ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখা একটি পোস্ট। আর সেখান থেকেই শুরু ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের আন্দোলনের গল্প।

গত ১৬ মে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দিপকের করা এই পোস্টই পরে রূপ নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্মে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেটি পরিণত হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের তরুণদের অন্যতম বৃহৎ আন্দোলনে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিপকের পোস্টটি ছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া। এক বক্তব্যে তিনি বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে বিচারপতি জানান, তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

কিন্তু ততক্ষণে দিপকের পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়। সেটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যা দ্রুত লাখো তরুণের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

ভারতে চিকিৎসা শিক্ষার ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, উচ্চ বেকারত্ব এবং সরকারি জবাবদিহিতার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ করে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং এর সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগ জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

গত কয়েক দিনে নয়াদিল্লিতে কয়েক হাজার মানুষ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। মুম্বাইসহ দেশের আরও বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদ।

৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে চলতি বছরের জুনের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ছিলেন। সেখানে তিনি জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছিলেন।

আন্দোলনের গতি বাড়তে শুরু করলে তিনি দেশে ফিরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন।

এরপর থেকেই আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। টি-শার্ট ও জিন্স পরিহিত দিপককে প্রায় প্রতিদিনই মঞ্চে উঠে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।

মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে একটি দলিত পরিবারে জন্ম অভিজিৎ দিপকের।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বাবা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছেন এবং তার দাদা ছিলেন একজন কৃষক।

দলিত পরিচয় তার রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। দিল্লিতে পৌঁছানোর সময় তিনি দলিত নেতা ও ভারতের সংবিধানের অন্যতম রূপকার ড. বি.আর. আম্বেদকরের আত্মজীবনী হাতে নিয়ে সমর্থকদের সামনে হাজির হন।

গত সপ্তাহে আন্দোলনের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক নারী তার মুখে নীল কালি নিক্ষেপ করেন। পরে ওই নারী অভিযোগ করেন, ককরোচ জনতা পার্টি হিন্দু দেবতা রামকে অপমান করেছে।

ঘটনার পর দিপকে নিজের কালিমাখা মুখের ছবি প্রকাশ করে লেখেন, "নীলই আমার রং’ যা আম্বেদকরপন্থী আন্দোলনের প্রতীকী নীল রঙের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

২০২০ সালে দিপকে দিল্লির আম আদমি পার্টির (এএপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিমে যোগ দেন। সেখানে কাজ করার সময় তিনি মিম, ব্যঙ্গ এবং রসবোধনির্ভর রাজনৈতিক প্রচারণার কৌশল আয়ত্ত করেন।

বর্তমানে তিনি এএপির সঙ্গে যুক্ত নন। তবে দলটি এবং ভারতের আরও কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

দিল্লির ইউটিউবার মেঘনাদ এস. এবং তার এক বন্ধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট তৈরি করেন।

এরপর দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ অনুসারী পায়। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেঘনাদের ভাষায়, "এটি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেড়ে ওঠা একটি আন্দোলন।"

বোস্টন থেকে মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিপকে বলেছিলেন, "এটি ভারতের রাজনৈতিক আলোচনার ধরন বদলে দেওয়ার আন্দোলন। ভারতের তরুণরা মূলধারার রাজনীতির আলোচনায় প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল।"

তিনি জানান, নিজের এবং পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরে এসেছেন এবং শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের পাশে থাকবেন।

বুধবার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে দিপকে বলেন, "আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই আমরা জয় না পাওয়া পর্যন্ত থামব না।"

বিশ্লেষকদের মতে, অভিজিৎ দিপকের উত্থান শুধু একজন আন্দোলনকারীর জনপ্রিয়তার গল্প নয়; এটি ভারতের নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ, হতাশা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন ভাষারও প্রতীক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিম ও ব্যঙ্গকে হাতিয়ার বানিয়ে তারা যে আন্দোলন গড়ে তুলেছে, তা ভারতের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ দাবানলের কবলে ফ্রান্স-স্পেন, আগুন ছড়াচ্ছে শহরের দিকে
ছবি সংগৃহীত
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেও থামছে না আন্দোলন, নতুন দাবিতে অনড় সিজেপি