কলকাতায় বিক্ষোভের পর কড়া ব্যবস্থা, গুন্ডা দমন আইনে মামলা
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে পানির বোতল ও জুতা নিক্ষেপ এবং হামলার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজ্য বিধানসভায় তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত শুক্রবার ধর্মতলায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মিছিল থেকেই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতা ছোড়া হয়। তিনি বলেন, আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি নিজেও দেখা করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর ভাষ্য, ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ নামে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এতে স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির দেবদত্ত গঙ্গোপাধ্যায় এবং বামপন্থি সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। তিনি দাবি করেন, সিজেপি নিজেদের ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের কোনো স্বীকৃত ছাত্র সংগঠন রয়েছে বলে তার জানা নেই।
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ ছিল। বারবার উসকানি সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশ সংযম দেখিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে পরিকল্পিতভাবে ডোরিনা ক্রসিংয়ে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ছয়টি মামলা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বিধানসভায় পাস হওয়া গুন্ডা দমন আইন এসব মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
বিধানসভায় তিনি আফরোজ, নাহিদ, তনভির, রাহুল ও জামাল নামে কয়েকজন অভিযুক্তের নামও উল্লেখ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ছয়জন সাংবাদিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। পুলিশের তদন্তে এ পর্যন্ত ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সাধারণ শিক্ষার্থী বা নিট আন্দোলনের অংশ নন বলে দাবি করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য