উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস, প্রাণ গেল তরুণীর

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসে এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তিন বছর বয়সী একটি শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ইস্টের ডি-৫ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েকদিনের অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়ায় একটি অংশ ধসে পাশের একটি বসতিতে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেল্টারটি মাটিচাপা পড়ে যায়। ভেতরে থাকা লোকজন আটকা পড়লে আশপাশের রোহিঙ্গারা, স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধারের পর গুরুতর আহত অবস্থায় সমি উল্লাহর মেয়ে বিবি হাফসা (১৯)-কে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হয় নুরুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে আব্দুল মজিদ। তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পসংলগ্ন জিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাহাড়ধসের খবর পাওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। আহত তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। আহত শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্টরা ক্যাম্পবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।
দুর্ঘটনার পর এপিবিএনের সদস্য, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং রোহিঙ্গারা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহত তরুণীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে টানা বর্ষণের কারণে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাসহ পৃথক ঘটনাগুলোতে অন্তত ১৬ জন রোহিঙ্গার প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য