গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যাতে দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। গণতন্ত্র হুমকিগ্রস্ত হলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণ অধিকার পরিষদের উদ্যোগে রক্তস্নাত : প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সাড়ে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। কোটা-বিরোধী আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ৩৬ দিনে ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য এসেছে। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ আহত হন, কয়েক হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন এবং শত শত মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারান।
তিনি বলেন, আহতদের অনেকেই এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারও হাত বা পা কেটে ফেলতে হয়েছে, আবার কারও মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। সাভারে নিহতদের মরদেহ পোড়ানোর ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক শহীদের মা অভিযোগ করেছেন, তাঁর সন্তান তখনো পুরোপুরি মারা যাননি; জীবিত অবস্থায় তাঁকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
ইশরাক হোসেনের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডা, সায়েন্সল্যাব, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। স্নাইপার, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমন এবং শাসন দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণেই ৩৬ দিনের মাথায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা সম্ভব হয়।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দলীয় পরিচয় ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এক দফার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতাতেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান যেমন বাংলাদেশকে দাসত্বে রাখতে চেয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালে ভারতের আধিপত্যবাদী শক্তিও বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল এবং সেটি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম একটি উপাদান ছিল।
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও তর্ক-বিতর্ক গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। জাতীয় সংসদ, প্রেস ক্লাব কিংবা রাজপথ সব জায়গায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মতাদর্শের লড়াই চলবে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দল যেন পথভ্রষ্ট না হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দিল্লিতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা এবং তাঁকে আশ্রয় দেওয়া আধিপত্যবাদী শক্তি। তাই রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, গণঅধিকার পরিষদসহ সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র–জনতা এ ধরনের যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে দাঁড়াবে এবং কঠোর জবাব দেবে।
রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সহ গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য