{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

উধাও হচ্ছে সাংবাদিকদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পি.এম.
উধাও হচ্ছে সাংবাদিকদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সাংবাদিক, ফ্যাক্ট-চেকার, মানবাধিকারকর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অচল করে দেওয়ার একটি নতুন কৌশল সামনে এসেছে। এতে ভুক্তভোগীকে কোনো লিংকে ক্লিক করা বা বার্তার জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না। শুধু মেসেঞ্জারে একটি নির্দিষ্ট ধরনের বার্তা পাঠিয়েই, পরে সেটি রিপোর্ট করার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এই পদ্ধতিকে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা 'জিরো-ক্লিক' ধরনের আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করছেন। কারণ এতে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তির কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই তার অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নেত্র নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম একদিন অনলাইনে খাবার অর্ডার করার সময় 'নওশিন নোভা' নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেজ রিকোয়েস্ট পান। তিনি বার্তাটি খোলার আগেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। পরে মেটা জানায়, তিনি নাকি "মানব শোষণ" নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।

এর আগে একই অ্যাকাউন্ট থেকে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে পাঠানো বার্তার জবাব দেওয়ার পরও তার অ্যাকাউন্ট একবার নিষ্ক্রিয় হয়েছিল। সে সময়ও মেটা অভিযোগ করেছিল, তিনি "প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন আহ্বান"–সংক্রান্ত নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন। আপিলের পর কয়েক দিন পরে তার অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট–এর প্রতিষ্ঠাতা কাদেরউদ্দিন শিশির। তিনি জানান, একটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট নিজেকে বিপদে পড়া একজন আন্দোলনকারী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর তার ফেসবুক ও সংযুক্ত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও বন্ধ হয়ে যায়। পরে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পর তিনি দেখতে পান, কথোপকথনের মধ্যে একটি বার্তা পাঠানোর পর তা মুছে ফেলা হয়েছিল। তার ধারণা, ওই মুছে ফেলা বার্তাটিই পুরো ঘটনার সূত্রপাত।

আরেক ভুক্তভোগী সামাজিক কর্মী আহনাফ তাহমিদও একই ধরনের কৌশলের শিকার হওয়ার কথা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপরিচিত একজন ব্যক্তি বিপদে পড়ার কথা বলে যোগাযোগ করে, এরপর অল্প সময়ের জন্য একটি অশ্লীল বার্তা পাঠিয়ে তা মুছে ফেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

নেট্রা নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্বিতীয়বার জাইমা ইসলামের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বার্তাটি খোলেনওনি। পরে পুনরুদ্ধার হওয়া অ্যাকাউন্টে তিনি দেখতে পান, সেখানে ইংরেজি ও ফিলিপিনো ভাষার মিশ্রণে এমন একটি বার্তা ছিল, যাতে যৌনসেবা সম্পর্কিত স্পষ্ট শব্দ ও অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার ইঙ্গিত ছিল। এ ধরনের ভাষা মেটার স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা 'অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন' বা 'হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন' নীতিমালা সক্রিয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন স্প্যামার গোষ্ঠী এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ এমন দাবিও করছেন যে, সাম্প্রতিক একটি আপডেটের পর এই দুর্বলতাকে আরও সহজে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে ফেসবুকের রিপোর্টিং ব্যবস্থা অপব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। আগে ভুয়া কপিরাইট অভিযোগের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট বা পোস্ট সরানোর চেষ্টা করা হতো। তবে নতুন কৌশলটির বিশেষত্ব হলো, এতে ভুক্তভোগীর কোনো কর্মকাণ্ডেরই প্রয়োজন হয় না।

নেট্রা নিউজ এমন একাধিক ফেসবুক পেজের সন্ধান পেয়েছে, যারা প্রকাশ্যেই সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অ্যাক্টিভিস্টদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়ার দাবি করে। কিছু গোষ্ঠী অর্থের বিনিময়ে এই ধরনের সেবা দেওয়ারও প্রচারণা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মতামত জানতে যোগাযোগ করা হলেও মেটা কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে নেট্রা নিউজ।

ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন (ইএফএফ)–এর আন্তর্জাতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিভাগের পরিচালক জিলিয়ান ইয়র্ক বলেছেন, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিতে অসাধু গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই বিভিন্ন রিপোর্টিং ব্যবস্থা অপব্যবহার করে। তার মতে, স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট মডারেশন যত বাড়ছে, ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও তত বাড়ছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর নীরব হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যদের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধরনের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা না যায়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্র আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ভিওডি বাংলা/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার ডিআরইউ‘র ‘ফল উৎসব’
ছবি: সংগৃহীত
গণমাধ্যমকে নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান তথ্য অধিদপ্তরের
ছবি: ভিওডি বাংলা
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাংবাদিক সমিতির ব্যতিক্রমী ফল উৎসব