কওমি মাদ্রাসার ‘রেজিস্ট্যান্স ডে’ দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলবেন ইশরাক

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ১৯ জুলাইয়ের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দিনটিকে ‘কওমি মাদ্রাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’ হিসেবে ঘোষণার দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের কনফারেন্স হলে ‘কওমি মাদ্রাসা রেজিস্ট্যান্স ডে বাস্তবায়ন কমিটি’ আয়োজিত ‘কওমি মাদ্রাসা রেজিস্ট্যান্স ডে ২০২৬: স্মৃতি, সংগ্রাম ও আগামীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলনে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। এ দাবির বিষয়ে তিনি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “আপনাদের মনের কথাটা জানা আমার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। কেন আপনারা কওমি মাদ্রাসার রেজিস্ট্যান্স ডে চাইছেন এবং কেন ১৯ জুলাই এই স্বীকৃতি চাচ্ছেন, সেটি ভালোভাবে বোঝার জন্য আপনাদের সরাসরি বক্তব্য শোনা প্রয়োজন ছিল।”
তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই আপনাদের এই কথাগুলো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব এবং আপনাদের দাবিটি বাস্তবায়নের পক্ষে দায়িত্ব নিয়েই কাজ করব, যাতে আপনারা যেভাবে এই স্বীকৃতি চান, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি দিনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। ১৬ জুলাই শহীদ জুলাই দিবস এবং ১৮ জুলাই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে পালনের মতো ১৯ জুলাই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকাও স্বতন্ত্র গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ১৯ জুলাই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যেভাবে ভূমিকা রেখেছিল, তা নিঃসন্দেহে স্বীকৃতির দাবিদার।”
ইশরাক হোসেন বলেন, কোনো দিবসকে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমরা এখনই সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি যে এটিকে সরকারি গেজেটভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারব। কারণ এর একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।”
তিনি জানান, কওমি মাদ্রাসার অবদান আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য একটি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্যভাবে আগামী ২ আগস্ট এ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাইবিষয়ক প্রধান অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক, যাতে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তো সারাজীবন সরকারে থাকব না। ভবিষ্যতে যারা সরকারের দায়িত্বে আসবেন, তারাও যেন এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, সে জন্য একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা প্রয়োজন।”
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, আন্দোলনের সফলতার পেছনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি বলেন, “কওমি মাদ্রাসা, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, পাবলিক ইউনিভার্সিটি, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল, তখনই ৩৬ দিনের মধ্যে সেই শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল।”
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের যৌক্তিক বিষয়গুলো তিনি উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরবেন এবং দাবি বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ভিওডি বাংলা/এএইচ/এমএস








মন্তব্য