বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট পদে নিয়োগ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন চিকিৎসক ও ডেন্টাল চিকিৎসকরা। ৮৮তম বিএমএ স্পেশাল (আর্মি মেডিক্যাল কোর-এএমসি) এবং ৭২তম বিএমএ স্পেশাল (আর্মি ডেন্টাল কোর-এডিসি) কোর্সে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১০ জুলাই থেকে। আগ্রহীরা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পুরুষ ও নারী-উভয় প্রার্থীকে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বয়স ও শারীরিক যোগ্যতা
প্রার্থীর বয়স ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অনূর্ধ্ব ২৮ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীদের ন্যূনতম উচ্চতা হতে হবে ১ দশমিক ৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি) এবং ওজন ৫৭ কেজি। বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ০ দশমিক ৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) এবং প্রসারিত অবস্থায় ০ দশমিক ৮১ মিটার (৩২ ইঞ্চি) হতে হবে।
নারী প্রার্থীদের ন্যূনতম উচ্চতা ১ দশমিক ৫২ মিটার (৫ ফুট ৩ ইঞ্চি), ওজন ৪৮ কেজি। বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ০ দশমিক ৭১ মিটার (২৮ ইঞ্চি) এবং প্রসারিত অবস্থায় ০ দশমিক ৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) হতে হবে।
উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী সেনাবাহিনীর নির্ধারিত স্কেলের অতিরিক্ত ওজন থাকলে প্রার্থী অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
আর্মি মেডিক্যাল কোর (এএমসি)
সরকার স্বীকৃত মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি থাকতে হবে।
বিএমএতে যোগদানের আগে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে ইন্টার্নশিপ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট জিপিএ-৯ থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৫-এর কম হওয়া যাবে না।
আর্মি ডেন্টাল কোর (এডিসি)
সরকার স্বীকৃত ডেন্টাল কলেজ থেকে বিডিএস ডিগ্রি থাকতে হবে।
বিএমএতে যোগদানের আগে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে এবং ইন্টার্নশিপ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট জিপিএ-৯ থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৫-এর কম হওয়া যাবে না।
বৈবাহিক অবস্থা ও জাতীয়তা
পুরুষ প্রার্থীদের অবিবাহিত হতে হবে। তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ২৬ বছরের বেশি হবে, এমন বিবাহিত পুরুষ প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। নারী প্রার্থীরা বিবাহিত বা অবিবাহিত উভয় অবস্থায় আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
যারা আবেদন করতে পারবেন না
সেনা, নৌ বা বিমানবাহিনী কিংবা সরকারি চাকরি বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত, অপসারিত বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন না।
আইএসএসবি পরীক্ষায় দুইবার স্ক্রিন্ড আউট বা রেডকার্ড পাওয়া প্রার্থীরাও অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে একবার স্ক্রিন্ড আউট এবং একবার রেডকার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে পাঁচ বছর আগে দুইবার স্ক্রিন্ড আউট বা রেডকার্ড পাওয়া ব্যক্তিরাও নির্ধারিত শর্তে আবেদন করতে পারবেন।
চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষেত্রে ক্ষীণদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি ২ দশমিক ৫ ডাইঅপ্টারের বেশি এবং বিষমদৃষ্টি ১ ডাইঅপ্টারের বেশি হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এ ছাড়া সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আপিল মেডিক্যাল বোর্ড কর্তৃক অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তি, মেডিক্যাল বা ডেন্টাল কলেজের পেশাগত পরীক্ষায় দুইয়ের বেশি বিষয়ে রেফার্ড পাওয়া চিকিৎসক, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কিংবা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন না।
কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা আবেদন প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী প্রার্থীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবেদনের নিয়ম ও ফি
আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করা যাবে ১০ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়োগ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হোম পেজের ওপরের ডান পাশে থাকা ‘Apply Now’ অপশনে ক্লিক করে আবেদন করতে হবে।
আবেদনকারীকে টেলিটক, ভিসা/মাস্টারকার্ড, ট্যাপ, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মোট ২ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে আবেদন ফি ১ হাজার টাকা এবং অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফি ১ হাজার টাকা। এই অর্থ অফেরতযোগ্য। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর প্রার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সাক্ষাৎকারের কল-আপ লেটার পাবেন।
নির্বাচন পদ্ধতি
লিখিত পরীক্ষা : পেশাগত বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৪ আগস্ট সকাল ৯টায় শহীদ বীর বিক্রম রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা সেনানিবাসে।
প্রার্থীদের পরীক্ষার সময় কল-আপ লেটার ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে ওয়েবসাইট, এসএমএস ও টেলিফোনের মাধ্যমে জানানো হবে।
স্বাস্থ্য ও মৌখিক পরীক্ষা : লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিজিএমএস অফিস, ঢাকা সেনানিবাসে।
এ সময় এসএসসি/ও লেভেল, এইচএসসি/এ লেভেল, এমবিবিএস/বিডিএস, ইন্টার্নশিপ, বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড, এফসিপিএস পার্ট-১/এমডি বা অন্যান্য সনদের মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।
আইএসএসবি পরীক্ষা : লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আইএসএসবি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত আইএসএসবিতে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চার দিনব্যাপী এ পরীক্ষার সব ব্যয় সরকার বহন করবে।
চূড়ান্ত নির্বাচন : সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধাক্রম অনুযায়ী সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল শাখার পার্সোনেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিদপ্তর চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করবে এবং যোগদানপত্র প্রদান করবে।
প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত অফিসার ক্যাডেটরা বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ২৪ সপ্তাহের সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করলে বিধি অনুযায়ী কমিশন, পদমর্যাদা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত বেতন-ভাতা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা, নিরাপদ আবাসন, সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা এবং সন্তানদের সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বিএমএতে যোগদানের আগে সাঁতার শেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ (এএফএমসি) থেকে পাস করা প্রার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য