মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই যুদ্ধ করেছি: আবদুস সালাম

আউটসোর্সিং কর্মীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তো আমরা যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন,অধিকার আদায়ের জন্য মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংগ্রাম করতে হয়। সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। নিজের দাবি জানাতে হবে।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছে দাবি করতে হয়েছে, এখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছেন, এখন সরকারের কাছে দাবি করতে হবে। তবে সেই দাবিগুলো সিস্টেমেটিক হতে হবে। সরকারকে বলতে হবে, বোঝাতে হবে এবং সময় দিতে হবে। এই সরকার স্বৈরাচার সরকার নয়, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। অবশ্যই সরকার বিষয়গুলো দেখবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও যখন চাকরি দিতে হবে, খেটে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে—এ ধরনের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়, তখন বুঝতে হবে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। দীর্ঘদিন দেশে রাজনৈতিক সরকারের অভাব এবং ফ্যাসিবাদের কারণে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। কিছু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এই টাকা দেশে থাকলে অর্থনীতির অবস্থা এমন হতো না।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিল, মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। মিল-ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন। দুই বছরের মধ্যে মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন এবং বিদেশে চাল রপ্তানি করেছিলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, আজ তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বিধবা কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড চালু করছেন। তখন প্রশ্ন করা হচ্ছে—এই টাকা আসবে কোথা থেকে। কিন্তু তিনি পিছু হটেননি। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি বিশাল বাজেট প্রণয়ন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে টাকার কোনো সমস্যা নেই। আজও তারেক রহমান সেই মূলমন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। চুরি-ডাকাতি ও দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে অনেক কিছুই সম্ভব।
আবদুস সালাম বলেন, আপনাদের সরকার মাত্র কয়েক মাস ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা শিকড় গেড়ে বসেছিল, তারা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তাই সবকিছু ঠিক করতে সময় লাগবে।
তিনি বলেন, এই ১৭ বছর শ্রমিক নেতারা আপনাদের পাশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অনেক ত্যাগ ও কষ্ট করেছেন। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, অনেকে চাকরিতে থেকেও বদলি হয়েছেন, ওএসডি হয়েছেন। তারপরও তারা জনগণের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছেন।
আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের এই দাবি জনগণের দাবি। আউটসোর্সিংয়ে যারা আছেন, তারাও মানুষ। তাদের জন্য একটি সিস্টেম আনা দরকার।
তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশন চালাই। বিভিন্ন জায়গায় দেখি, বেতনের নামে বরাদ্দ হয়তো ১৫ হাজার টাকা, কিন্তু কর্মী পান ৭ হাজার টাকা। মাঝখানে যে টাকা চলে যায়, সেটি বন্ধ করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যদি সরাসরি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া যায়, তাহলে আউটসোর্সিংয়ের দরকার কী? এতে মাঝখানে কেউ টাকা নিতে পারবে না এবং কাজও ভালো হবে। কারণ পুরো বেতন না পেলে কাজের প্রতি মনোযোগ ও আগ্রহ কমে যায়।
তিনি বলেন, সরকার অবশ্যই চেষ্টা করবে। বিভিন্ন জায়গায় খালি পদে নিয়োগের সুযোগ বাড়ছে। তবে অর্থের সংকট এখনো আছে। তারপরও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাদের, তাদের ব্যবস্থা করতে হবে—হয় চাকরির সুযোগ দিতে হবে, নয়তো বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, “সরকারকে আপনারা কিছুদিন সময় দিন। এতদিনের জঞ্জাল দুই-চার-পাঁচ মাসে শেষ হবে না। এটি ঠিক করতে সময় লাগবে।
তিনি বলেন, আপনারা হতাশ হবেন না। দাবিটা জোরদার রাখতে হবে। দাবি না করলে মা-ও খাবার দেন না। তাই দাবি রাখতে হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আউটসোর্সিং কর্মীরা যেন ছাঁটাই না হন এবং যে জায়গায় আছেন, সেখানে কাজ করতে পারেন—সে বিষয়ে আমরা আপনাদের পক্ষ থেকে কথা বলার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ








মন্তব্য