মিশরের হৃদয়ভাঙা হার, নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব

বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা মিশর শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১১ মিনিটে ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে দিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলের লিড ধরে রেখেছিল মিশর। তাদের রক্ষণ ছিল সংগঠিত, গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইরও একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করছিলেন। তখন পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে যাচ্ছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
কিন্তু এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। এরপর ৮৪তম মিনিটে লিওনেল মেসি সমতাসূচক গোল করে ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরান। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের শক্তিশালী হেডে আসে জয়সূচক গোল।
শেষ মুহূর্তে গোল হজম করার পর মিশরের ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফ রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। টাচলাইনে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন এবং খেলা চলতে থাকে।
ম্যাচ যখন ৯০+৯ মিনিটে পৌঁছায়, তখনও শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল মিশর। কিন্তু আর্জেন্টিনার দৃঢ় রক্ষণ আর অভিজ্ঞতা তাদের আর কোনো সুযোগ দেয়নি।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ জিতে নেওয়ার এই প্রত্যাবর্তনকে ইতোমধ্যেই চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। অনেকের মতে, শুধু এই আসর নয়, সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হয়ে থাকবে এই ম্যাচ।
যে ম্যাচে ১১ মিনিট আগে পর্যন্ত জয়ের স্বপ্ন দেখছিল মিশর, সেই ম্যাচই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এক মহাকাব্যে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য