গোপালগঞ্জ
১৯ বছর পর বিএনপির সমাবেশ, ব্যাপক প্রস্তুতি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে ১৯ বছর পর আগামীকাল সোমবার জনসভা করবে বিএনপি। এই জনসভা ঘিরে শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে গোপালগঞ্জের রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও জামায়াত প্রকাশ্যে রাজপথে শোডাউন ও মিছিল সমাবেশ করছে। এটি বিগত প্রায় ১৬ বছরে দেখা যায়নি।
আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে খ্যাত গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কের মুক্তমঞ্চে এদিন সকাল ১০টায় সমাবেশের আয়জন করেছে দলটি। গোপালগঞ্জ শহরসহ জেলার আনাচে কানাচে দেখা যাচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন ও তোরণ। নেতাকর্মীদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী আওয়ামী লীগের ৩ মেয়াদে বিএনপিকে প্রকাশ্যে কোনো মিছিল মিটিং করতে দেখা যায়নি। ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমেই বিএনপির কর্মসূচি সীমাবদ্ধ ছিল।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে এ জনসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন ও প্রধান বক্তা হিসেবে থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদের। বিশেষ অতিথি থাকবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) খন্দকার মাশুকুর রহমান, সহ–আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মেহবাহ। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন ও জেলা বিএনপির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন হিরা।
এদিকে সমাবেশ সফল করতে ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা, প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি করে চলছে।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ও তৎকালীন প্রশাসনের বিমাতা সুলভ আচরণের কারণে বিএনপি প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারা দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনায় গোপালঞ্জে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশকে সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমুজ্জামান সেলিমসহ অন্যরা দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।’
গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, ‘বিগত দিনে আওয়ামী লীগ ও তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিএনপির কন্ঠ রোধ করা হয়েছিল। আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিরলসভাবে বিএনপিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আশা করি, প্রায় ৫০ হাজার লোকের সমাগম ঘটবে।’
ভিওডি বাংলা/এম,







