• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আবারও কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পি.এম.
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। বুধবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর শুক্রবার আবারও দেশটির উত্তরাঞ্চলে নতুন করে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, শুক্রবার আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় অঞ্চল, ম্যারাকে শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। যদিও এ ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনগণের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পের প্রভাবেই মূলত উত্তর ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

সরকারি ও আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দেশটির রাজধানী কারাকাসের বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং অনেক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৬০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া এখনও শতাধিক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আশঙ্কা করছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বহু এলাকায় এখনও উদ্ধারকারী দল পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছাশ্রমে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। অনেকে নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করছেন অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে দিনরাত কাজ করছেন স্বজনরা।

২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস নামের এক বাসিন্দা জানান, তার ছয় বছরের সন্তানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাতেই কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বড় কংক্রিটের স্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।

তার ভাষায়, “অনেক মানুষ এখনও ভেতরে আটকে আছে। দ্রুত ক্রেন ও উদ্ধার সরঞ্জাম না পৌঁছালে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হতে পারে। উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক এলাকায় ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি এখনও রয়েছে। ফলে মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আফটারশকের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জরুরি যোগাযোগ সহজ করতে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। বিশেষ করে ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্ল্যাটফর্মটি সীমিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান দুর্যোগে উদ্ধারকাজ ও তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে সরকার সাময়িকভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

ভিওডি বাংলা/জা

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানে মার্কিন হামলা
ছবি: সংগৃহীত
সিএনএন’র বিশ্লেষণ: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে লাভবান হচ্ছে কারা?
চীনকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের
হরমুজ থেকে টোল আদায়ে নতুন পরিকল্পনা ইরানের