হরমুজে জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানে মার্কিন হামলা

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ‘বোকামিপূর্ণভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলার পর শুক্রবার এই হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল হামলা’ চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) হামলাকারী ড্রোন একটি কার্গো জাহাজে আঘাত হানে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও ওই এলাকায় থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
হামলার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে কি না, তা দেখতেই পাবেন।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর আগ্রাসন যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ইরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলেও দাবি করেছে তারা।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা সমন্বয় ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে। পরে ১৭ জুন উভয় দেশ ১৪ দফা সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়। ওই সমঝোতায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য