• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

পাগলা মসজিদ

দানবাক্সে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি    ২৭ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পি.এম.
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চলছে পাগলা মসজিদের দান গণনার কার্যক্রম। ছবি: সংগৃহীত
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চলছে পাগলা মসজিদের দান গণনার কার্যক্রম। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৪৩ বস্তা ভর্তি টাকা। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে টাকার হিসাব-নিকাশের বিশাল কর্মযজ্ঞ। 

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির উপস্থিতিতে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। 

প্রতিবারের মতো এবারও দানবাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘ ছয় মাস পর সিন্দুক খোলা হওয়ায় এবার দানের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে রূপালী ব্যাংকের প্রায় একশ কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন মাদরাসার কয়েকশ’ শিক্ষার্থী, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মসজিদের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, বস্তা থেকে টাকা বের করে আলাদা করা ও গোছানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। পরে সেই টাকার বান্ডিল ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ব্যাংকের কর্মীরা মেশিনের সাহায্যে দ্রুতগতিতে টাকা গণনা করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মসজিদ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, দানসিন্দুকের নিরাপত্তা সারা বছরই নিশ্চিত করা হয়। শুধু খোলার দিন নয়, প্রতিটি ধাপেই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করছেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দান করতে আসেন।

নগদ অর্থ ছাড়াও অনেকে স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। এসব আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও হিসাব করা হয়।

রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারিছি জানান, এবারও নগদ অর্থের পাশাপাশি প্রচুর বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, পাগলা মসজিদের দান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটিয়ে বাকি অর্থ ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে ব্যাংকে জমা রয়েছে শত কোটিরও বেশি টাকা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, সময় ও সুযোগ অনুযায়ী এসব স্বর্ণালংকার প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। প্রাপ্ত অর্থও ব্যাংকে জমা করা হবে।

পাগলা মসজিদের দানের অর্থ শুধু মসজিদ পরিচালনায় নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও ব্যয় করা হয়। জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয় এই অর্থ থেকে।

এছাড়া অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা কল্যাণমূলক কাজেও অর্থ ব্যয় করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

পাগলা মসজিদকে ঘিরে একটি বৃহৎ আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ তলাবিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সে একসঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।
প্রকল্পে নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান, এতিমদের শিক্ষাব্যবস্থা, মাদরাসা, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সেকশনসহ আধুনিক নানা সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনের পর দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং এরপর শুরু হবে নির্মাণকাজ।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের বিতর্কিত দরপত্র বাতিল
ছবি: সংগৃহীত
১২ লাখ টাকাসহ সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী-ছেলে নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত
যেসব এলাকায় শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না