• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ক্রিমিয়ায় জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এ.এম.
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। হামলার জেরে অঞ্চলটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

রাশিয়া-নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ক্রিমিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী সেভাস্তোপলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চালানো হচ্ছে।

সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজবোঝিয়েভ বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি সীমিত ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়িতে জ্বালানি বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া গণপরিবহন চলাচল, দোকানপাট, ক্যাফে এবং সড়কবাতির কার্যক্রমেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন ও বিমান হামলার কারণে ক্রিমিয়াজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শুক্রবার রাতে ইউক্রেন একযোগে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালায়। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৬৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে মস্কো। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে মস্কো ও ক্রিমিয়াও ছিল। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে এটিই অন্যতম বড় ড্রোন হামলা।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করাই কিয়েভের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ক্রিমিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনের নিকোপোল শহরেও রুশ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওই হামলায় একটি মিনিবাসে থাকা দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এছাড়া সাউমি অঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইউরোপীয় অঞ্চলে রাশিয়ার তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযানও জোরদার হয়েছে। ফ্রান্সের নৌবাহিনী সম্প্রতি ‘শ্যাডো ফ্লিট’ সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানিতে ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে চলতি বছরে ইউরোপে এ ধরনের একাধিক জাহাজ আটক করা হয়েছে।

রাশিয়া-নিযুক্ত ক্রিমিয়ার প্রধান সার্গেই আক্সিনোভ জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা। এতে ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম সহজ হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সূত্র: ইউক্রেনিফর্ম/দ্য কিয়েভ পোস্ট

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
চীনকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা ইরানের
হরমুজ থেকে টোল আদায়ে নতুন পরিকল্পনা ইরানের
ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ
ফিলিপাইনে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, আফটারশকের সতর্কতা
বেইজিংয়ের আকাশচুম্বী ভবনে বিমান বিধ্বস্ত
বেইজিংয়ের আকাশচুম্বী ভবনে বিমান বিধ্বস্ত