চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের বিতর্কিত দরপত্র বাতিল

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিং কাজের ‘বিতর্কিত’ দরপত্র শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। দরপত্র প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট, প্রতিযোগীদের বাধা দেওয়া এবং সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয়ের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মিললে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজটির জন্য নতুন করে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ২৫ মে ব্যাগিং, স্ট্যাকিং, ক্লিনিংসহ কয়েকটি আনুষঙ্গিক কাজের জন্য সিইউএফএল দরপত্র আহ্বান করে।
এতে দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শিডিউল সংগ্রহ করলেও জমা দেওয়ার দিন কারখানার প্রবেশপথে একদল লোকের অবস্থানের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি ও বাধার মুখে আটটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়।
সূত্র জানায়, প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যাওয়ায় জমা পড়া দুটি দরপ্রস্তাবের মূল্যও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আহ্বান করা দ্বিতীয় দফার দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ এড়াতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ই-জিপি পদ্ধতিতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ জুন কারখানার প্রধান রসায়নবিদ ও অপারেশন প্রধান (ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে) উত্তম চৌধুরীর স্বাক্ষরে নতুন ই-দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ২৫ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে দরপত্রের নথি সংগ্রহ করতে পারবে। ৯ জুলাই দরপত্র খোলা হবে।
এদিকে দরপত্র-সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে সিইউএফএলের প্রশাসনিক অঙ্গনেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকারকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য