বিদেশিদের জন্য সম্পত্তি মালিকানার দ্বার খুলল সৌদি আরব

সৌদি আরব সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য সম্পত্তি মালিকানার নতুন বিধিমালা অনুমোদন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা এখন দেশটির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জমি ও স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারবেন। নতুন এ সিদ্ধান্তকে সৌদির বিনিয়োগ ও আবাসন খাতের জন্য বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়। সৌদি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি টানতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন এলাকায় বিদেশিরা সম্পত্তি কিনতে পারবেন। সৌদির সাধারণ রিয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অনুমোদিত এলাকার তালিকাও প্রকাশ করেছে।
মক্কার যেসব এলাকায় বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আবরাজ মক্কা, জাবাল ওমর, কিং সালমান গেট, বুর্জ আজইয়াদ, তিলাল ভিলেজ ও ধাখির মক্কা। এছাড়া মক্কা জোন-১ ও জোন-২ এলাকাও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে মদিনার অনুমোদিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আল-ঘুররা, রুয়া আল-মদিনা, নলেজ ইকোনমিক সিটি, ডাউনটাউন মদিনা, দারাত আল-হিজরা ও মদিনা জোন-১ এবং জোন-২।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে মক্কা ও মদিনার আবাসন প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক মুসলিম বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে।
রাজধানী রিয়াদ ও বাণিজ্যিক নগরী জেদ্দাতেও বিদেশিদের জন্য সম্পত্তি ক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। রিয়াদের যেসব উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে পারবেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউ মুরাব্বা, কিদ্দিয়া, কিং সালমান পার্ক, দিরিয়াহ গেট, স্পোর্টস বুলেভার্ড ও কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট।
এছাড়া কিং সালমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা এবং ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট জোনেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সম্পত্তি কিনতে পারবেন।
জেদ্দায় শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল ছাড়াও উন্নয়ন জোন-১ থেকে জোন-৫৫ পর্যন্ত এলাকায় বিদেশিদের জন্য সম্পত্তি মালিকানার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ও পর্যটননির্ভর আল-উলার একাধিক জোনও এই সুবিধার আওতায় এসেছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় সৌদির কয়েকটি মেগা প্রকল্পেও বিদেশিদের বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিওম, আমালা, রেড সি প্রকল্প, জাজান বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রাস আল-খাইর এবং কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক সিটি।
সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী ফাহাদ বিন আবদুলজলিল আল-সাইফ বলেন, নতুন নিয়ম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি করবে। এতে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত সৌদির আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। বিনিয়োগকারীরা এখন স্পষ্টভাবে জানতে পারবেন কোন কোন এলাকায় সম্পত্তি কেনার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে রিয়াদ, জেদ্দা ও আল-উলার উন্নয়ন এলাকাগুলো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে এসব অঞ্চলে আবাসন ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
সৌদির ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটির রিয়েল এস্টেট খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে সৌদির আবাসন বাজারের আকার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য