• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অর্থকষ্টে চিকিৎসাহীন কাঙালিনী সুফিয়া

বিনোদন ডেস্ক    ২৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫২ পি.এম.
অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন লোকসংগীতশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। ছবি: সংগৃহীত। ছবি: সংগৃহীত
অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন লোকসংগীতশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। ছবি: সংগৃহীত। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া জীবনের শেষ সময়ে এসে চরম আর্থিক সংকট ও নানা শারীরিক জটিলতায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ভেঙে গেলেও অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। বর্তমানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকায় সরকার থেকে পাওয়া বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন পার করছেন এই গুণী শিল্পী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে রাতে বাথরুমে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন কাঙালিনী সুফিয়া। সে সময় তার মেয়ে পুষ্প ঢাকায় ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে এলাকার এক কবিরাজের মাধ্যমে ভাঙা হাতে বাঁধন দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য পরিবারের নেই।

অসুস্থ শরীর নিয়েই এখন দিন কাটছে ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ গানখ্যাত এই শিল্পীর। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে এখন আর কোথাও গান করতে যেতে পারেন না। ফলে আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

কাঙালিনী সুফিয়া বলেন, “টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারছি না। স্থানীয়ভাবে যেভাবে সম্ভব চিকিৎসা চলছে। আগে গান গেয়ে সংসার চালাতাম, এখন আর সেই শক্তিও নেই। মানুষের সাহায্যে কোনোভাবে দিন যাচ্ছে।”

তার মেয়ে পুষ্প জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতা চাইলেও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাননি।

তিনি বলেন, “মায়ের চিকিৎসার জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি। কিন্তু বড় ধরনের সহযোগিতা পাইনি। ভালো হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য নেই। এর মধ্যে বিদ্যুতের বিলও জমে গেছে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে সাত হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু এই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা চালানো সম্ভব নয়।”

পরিবারের দাবি, কাঙালিনী সুফিয়া শুধু হাতের সমস্যাতেই ভুগছেন না; দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত তিনি। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলা লোকগানের অঙ্গনে কাঙালিনী সুফিয়া এক পরিচিত নাম। তার প্রকৃত নাম টুনি হালদার। ১৯৬১ সালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রামীণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মাধ্যমে সংগীতজীবন শুরু করেন।

পরে ওস্তাদ হালিম বয়াতির সংস্পর্শে এসে বাউল ও লোকসংগীতের ধারায় নিজেকে গড়ে তোলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় সুফিয়া খাতুন। পরবর্তীতে শিল্পীসত্তা ও জীবনসংগ্রামের প্রতীক হিসেবে ‘কাঙালিনী’ উপাধিতে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

একসময় রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার এলাকায় পথশিল্পী হিসেবে গান গাইতেন কাঙালিনী সুফিয়া। সেখানেই তার গান শুনে মুগ্ধ হন কবি ও বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক ফজল-এ-খোদা। তার উদ্যোগে বেতারে গান গাওয়ার সুযোগ পান সুফিয়া। এরপর ধীরে ধীরে তিনি লোকসংগীত অঙ্গনে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

শিল্পাচার্য মুস্তাফা মনোয়ার তার কণ্ঠ ও গায়কি শুনে ‘কাঙালিনী’ উপাধি দেন। সেই থেকে ‘কাঙালিনী সুফিয়া’ নামেই দেশজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে প্রায় পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেছেন এই শিল্পী। দেশ-বিদেশের নানা মঞ্চে বাংলা লোকসংগীত পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের লোকগান তুলে ধরেছেন তিনি। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সম্মাননাও পেয়েছেন।

তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারায় মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন কাঙালিনী সুফিয়া ও তার পরিবার। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা পেলে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা পরিবারের।

ভিওডি বাংলা/জা
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবার একসঙ্গে তিন কিংবদন্তি
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, মুক্তি পাচ্ছে ‘টক্সিক’
ঢালিউডের নৃত্য পরিচালক ও অভিনেতা জাকির হোসেন| ছবি: সংগৃহীত
ক্যানসারে নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেনের মৃত্যু