• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

হরমুজে স্বাভাবিক হচ্ছে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২৬ জুন ২০২৬, ০৭:২৬ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস মিলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় অচল থাকার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জাহাজ চলাচল। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও।

বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারের নিচে নেমে যায়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার আগের দিনের দামের চেয়েও কম। পরে কিছুটা বেড়ে তা ৭৩ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়ায়।

ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম সীমিত করে দেয়। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ফলে সংঘাত শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।

তবে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হতে শুরু করে। ওই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক প্রতিভা থাকের বলেন, তেলের দাম আগের অবস্থানে ফিরলেও ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে বাজার সতর্ক নজর রাখছে। নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে আবারও জ্বালানির দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়ছে জাহাজ চলাচল

যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহান্তে সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রফতানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৮ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ২৮৪টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। যদিও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করত।

কেপলার জানিয়েছে, বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করছে।

সোমবার কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সামুদ্রিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মারিস্কসের প্রধান নির্বাহী দিমিত্রিস মানিয়াটিস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ইরানের অনুমতি নিয়ে সীমিত সংখ্যক জাহাজ উত্তর দিকের পথ ব্যবহার করছে। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে দক্ষিণের নিরাপদ রুট ব্যবহার করতে নির্দেশনা দিচ্ছে, যা মাইন ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে তুলনামূলক নিরাপদ।

তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।

জ্বালানির দামে স্বস্তির আভাস

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলেও এখন বাজারের নজর ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব কত দ্রুত পড়ে সেদিকে।

যুক্তরাজ্যের মোটরগাড়ি সংস্থা আরএসি’র নীতি বিভাগের প্রধান সাইমন উইলিয়ামস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় আগামী সপ্তাহে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি লিটারে ১৫০ পেন্সের নিচে নামতে পারে। একইসঙ্গে ডিজেলের দামও ১৬০ পেন্সের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরএসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১৫৯ দশমিক ৫৩ পেন্সে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ১৫ এপ্রিলের সর্বোচ্চ ১৯১ দশমিক ৫৪ পেন্স থেকে কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এপ্রিল মাসে সেখানে সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ছিল। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৩ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমে এসেছে।

পাম্পে দাম না কমায় বিতর্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও অনেক দেশে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম দ্রুত না কমায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার শেল ও এক্সনমোবিলসহ বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও ভোক্তারা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “তেলের দাম অনেক কমে গেছে। কিন্তু পাম্পে তার প্রতিফলন তেমন দেখা যাচ্ছে না, যতটা থাকা উচিত ছিল।”

তবে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, খুচরা জ্বালানির দাম সবসময় আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সমন্বয় হয় না।

একই ধরনের অভিযোগ যুক্তরাজ্যেও উঠেছে। যদিও দেশটির প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত মাসে জানিয়েছে, বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে কোম্পানিগুলোর গড় মুনাফা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।

সূত্র: বিবিসি

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪
ছবি-সংগৃহীত
সিএনএন’র বিশ্লেষণ: ট্রাম্প কি আমেরিকার ২৫০ বছর উদযাপন করছেন, নাকি নিজেকে?
দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত
দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিল ভারত