• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সিএনএন’র বিশ্লেষণ:

ট্রাম্প কি আমেরিকার ২৫০ বছর উদযাপন করছেন, নাকি নিজেকে?

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ পি.এম.
ছবি-সংগৃহীত
ছবি-সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জাতির দীর্ঘ ইতিহাস ও অর্জনের চেয়ে ট্রাম্প তার নিজের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে অনুষ্ঠিত “গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামরিক বিমান প্রদর্শনী, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মঞ্চে ওঠেন। বক্তৃতার শুরুতে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও দ্রুত বর্তমান রাজনীতির প্রসঙ্গে চলে যান এবং দাবি করেন, তার নেতৃত্বেই “আমেরিকা আবার ফিরে এসেছে” এবং তিনি একটি “মৃতপ্রায় দেশকে” পুনরুজ্জীবিত করেছেন।

ট্রাম্প তার প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ—দক্ষিণ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, কর কমানোর উদ্যোগ এবং সামরিক শক্তির প্রশংসা—তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে “সম্পূর্ণ ব্যর্থ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, “আমরা এখন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছি।”

তবে সমালোচকদের মতে, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়ার পরিবর্তে বক্তৃতাটি অনেকটাই রাজনৈতিক প্রচারণার মতো ছিল। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন অভিযোগ করেন যে, দেশের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষকে ট্রাম্প নিজের ভাবমূর্তি তুলে ধরার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য ব্যাপক সাড়া ফেললেও বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বহু নাগরিক—বিশেষ করে যারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থক নন—এই আয়োজনে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব দেখতে পাননি। বক্তৃতায় দেশের বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক মতের বহুমাত্রিক পরিচয় বা জাতীয় ঐক্যের বার্তার চেয়ে ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে।

ইতিহাসবিদরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ১৯৭৬ সালে স্বাধীনতার দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপনের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই তুলনায় ট্রাম্পের এবারের ভাষণ অনেক বেশি দলীয় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক বলে অনেকে মনে করছেন।

বক্তৃতার শেষেও ট্রাম্প ঐতিহাসিক নেতাদের উদ্ধৃতি না দিয়ে নিজের বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক স্লোগান “মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন”-এর ধাঁচে “আমরা আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী, গর্বিত, নিরাপদ এবং মহান করব” বলে বক্তব্য শেষ করেন এবং দেশকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।

সার্বিকভাবে, সমর্থকদের কাছে এটি ছিল ট্রাম্পের নেতৃত্বের সাফল্যের উদযাপন, আর সমালোচকদের কাছে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাসের চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার একটি উদাহরণ।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল মোসাদ
ছবি: সংগৃহীত
সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে অবৈধ মাদক পাচার: জাতিসংঘ মহাসচিব