নন্দিনী হত্যার বিচার নিশ্চিত হবে, আশ্বাস দিলেন ত্রাণমন্ত্রী

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নে নিহত শিশু নন্দিনীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী বলেন, শিশু নন্দিনীর হত্যাকান্ড নিষ্ঠুর, নির্মম ও নৃশংস এক ঘটনা; কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এমন বর্বরোচিত কান্ড ঘটাতে পারে না।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকে তিনি, লালমনিরহাটের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এবং রোকন উদ্দিন বাবুল ঘটনাস্থলে এসেছেন।
এ সময় মন্ত্রী অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যারা মব সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়িতে আগুন দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসাদুল হাবিব বলেন, যারা মব সৃষ্টি করে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছেন, জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গাড়িতে আগুন দিয়েছেন, জনমনে ত্রাশ ও ভীতির সঞ্চার করেছেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
নিহত নন্দিনীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, একেএম মোমিনুল হকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং রাজনৈতিক নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের নিখোঁজ ৭ বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রানীর বস্তাবন্দী মরদেহ একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিধান চন্দ্র শিশুটিকে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তেজিত জনতা পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও থানার ওসিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং ডিসির গাড়িসহ সাতটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
ভিওডি বাংলা/এমএস






