• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
দেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে প্রস্তাবিত বাজেট: আইনমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে পর্যটন খাতে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের সংসদে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্মান জানাতে পারবেন এমপিরা প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব রাজধানী থেকে ৪ বাস টার্মিনাল সরানোর সময়সীমা জানালেন সড়কমন্ত্রী শহীদ জিয়ার আদর্শেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব: প্রশাসক আবদুস সালাম প্রাথমিক শিক্ষার সব দপ্তরকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নির্দেশ সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ জুলাই এসএসএফ’র দক্ষতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সেজে ফাঁদে ফেলতেন রনি, অর্থ সংগ্রহ করতেন রাকিবুল

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পি.এম.
রাজধানীতে উইমেন এন্টারপ্রিনিউয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)-এর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

উইমেন এন্টারপ্রিনিউয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর বীর উত্তম সি. আর. দত্ত সড়কের অ্যাঙ্কর টাওয়ারে অনুষ্ঠিত ‘উইয়াব বাজেট পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক, সম্ভাব্য প্রভাব, চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার মতো সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) সম্প্রসারণ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ওয়েব সভাপতি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নাসরিন ফাতেমা আউয়াল বলেন, নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়িয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে স্টার্টআপ উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা এবং যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দকে স্বাগত জানান। তার মতে, এ বরাদ্দ নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক নাসরিন ফাতেমা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।

তিনি বলেন, এ তহবিলের একটি নির্দিষ্ট অংশ সহজ শর্তে নারী-নেতৃত্বাধীন এসএমই, কুটিরশিল্প, গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা ও নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের জন্য বরাদ্দ করা হলে অর্থনীতিতে নারীদের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জাতীয় সেলের সদস্য জামাইল বশির জেবি বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচির আওতায় সরকার ১০ হাজার নার্সারি স্থাপন এবং ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি জানান, এসব কর্মসংস্থানের মধ্যে ৪ লাখের বেশি পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের জন্য।

তিনি বলেন, “আমরা চাই ওয়েব’র মতো সংগঠনগুলো আমাদের সঙ্গে কাজ করুক, কারণ একা আমাদের পক্ষে সব নারীর কাছে পৌঁছানো কঠিন।”

জেবি বলেন, গ্রামীণ নারীদের ৫০ থেকে ১০০টি চারা নিয়ে ক্ষুদ্র গৃহভিত্তিক নার্সারি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হবে এবং কর্মসূচির আওতায় সেসব চারা ক্রয় করা হবে, যা তাদের সরাসরি আর্থিক সুবিধা দেবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ত করা হবে, ফলে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি প্রান্তিক নারীদের এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করতে উইয়াবকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। তা হচ্ছে— নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও এসএমই অর্থায়নে পৃথক কোটা এবং সহজ জামানত ব্যবস্থা কার্যকর করা; জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজার সম্প্রসারণ, ই-কমার্স সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ; প্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, রপ্তানি প্রস্তুতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ; সরকারি ক্রয়ে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা; এবং করসংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, বাজেটে কোনো ঘাটতি থেকে থাকলে সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে তা পূরণ করবে।

একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতে লাখো ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তার আরও শক্তিশালী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করে ওয়েব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসরিন বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ওয়েব নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, এখনও অনেক নারী উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে সমস্যার মুখোমুখি হন। তবে অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবের হস্তক্ষেপের ফলে প্রাথমিকভাবে প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীরাও অর্থায়ন পেয়েছেন।

তিনি বলেন, নারীদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত নারী উদ্যোক্তা ও ওয়েবের মতো সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা। আমরা অবহিত হলে সদস্যদের মধ্যে তথ্য পৌঁছে দিতে পারব এবং তারা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের কারণে অনেক নারী এখন উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।

ওয়েব সভাপতি অভিযোগ করেন, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিলেও তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে কার্যকর তদারকি নেই।

তিনি বলেন, “নারী উদ্যোক্তাদের কাছে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু অর্থায়ন পৌঁছাচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে যথাযথ অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।”

ঋণের সুদের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাইলে তাদের জন্য সুদের হার ৪ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।

প্রস্তাবিত বরাদ্দ যথেষ্ট কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অনেক অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না হয়ে ফেরত গেছে, কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বিতরণ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত যাবে না।”

নাসরিন ফাতেমা হাওর অঞ্চলের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে পুরুষ শ্রমিকরা দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা মজুরি পেলেও একই ধরনের কাজে নারীরা পান প্রায় ৫০০ টাকা।

তিনি এ ধরনের বৈষম্যের প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, সামাজিক বাধা, পারিবারিক চাপ এবং বিপণনসংক্রান্ত সমস্যাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক নারী সন্ধ্যার পর চলাফেরা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন, যা তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ অংশগ্রহণকে সীমিত করে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়েব প্রতিনিধিরা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনাময় কয়েকটি বাজেট অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্টার্টআপ অর্থায়ন, ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ, এসএমই উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা সহায়তা।

এ সময় ওয়েব নেতৃবৃন্দ এবং নারী উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাজেটে আবাসন খাতের দাবি উপেক্ষিত: রিহ্যাব
বাজেটে আবাসন খাতের দাবি উপেক্ষিত: রিহ্যাব
৫৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস
৫৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস
বাজেটে কৃত্রিম হিসাব মেলানোর চেষ্টা হয়েছে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
বাজেটে কৃত্রিম হিসাব মেলানোর চেষ্টা হয়েছে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য