চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রতারণা
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সেজে ফাঁদে ফেলতেন রনি, অর্থ সংগ্রহ করতেন রাকিবুল

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. রাকিবুল হোসেন, রংপুরের তারাগঞ্জের মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী। বুধবার নীলফামারীর সৈয়দপুর থানাধীন কামারপুকুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস-এর একটি দল। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী একজন ওমান প্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি যোগাযোগ করে জানান তিনি ও তার এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। এমনকি ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী খাজা মোহাম্মদ আলীর যোগাযোগও করিয়ে দেন। পরবর্তীতে খাজা মোহাম্মদ আলী ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিভিন্ন প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করে।
প্রথম ধাপে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে খাজা মোহাম্মদ আলীকে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে আরও টাকা নিতে একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেয় প্রতারক। কিন্তু দীর্ঘসময় পরও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং খাজা মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য যোগাযোগকারীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার ভাগ্নে যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানায় পেনাল কোডে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে সিআইডি জানতে পারে যে, গ্রেফতারকৃত রনি ইসলাম নিজেকে ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করত। পেজটিতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসন সংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিওসহ প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে আসছিল। একই সঙ্গে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। এতে ভুক্তভোগীরা প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পা দিতেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করত। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হোসেন ও মো. রনি ইসলামকে গ্রেপ্তার করে সিপিসি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান চলছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
ভিওডি বাংলা/এফএ







