• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

একসঙ্গে চাকরি হারালেন ১,৮৬৮ শ্রমিক

   ৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি পোশাক কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে উলাইল এলাকায় এ কে এম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকায় প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়ার থেকে ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেল্স থেকে ৫৩ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে শনিবার (৬ জুন) প্রথম কর্ম দিবসে রেডিও কলোনি ও উলাইল এলাকার দুটি কারখানার সামনে ছাঁটাকৃত শ্রমিকদের অনেককে কারখানার সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

এদিন সকালে কারখানায় ঢুকতে না পেরে শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করে। এ সময় কর্মস্থলের সামনে মহাসড়ক কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। পরে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয় তারা।

কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রম আইন মেনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সকল সুবিধা ও পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে।

এদিকে কারখানার সামনে জড়ো শ্রমিকরা দাবি করেছে, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হয়নি। সাভারের উলাইল এলাকার কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটির আগে আমাদের ২০ দিনের বেতন দেয়। আমাদের কোনো নোটিশ না দিয়া ছাঁটাই করা হয়েছে। আজকে (শনিবার) শুনি আমার চাকরি নাই। ওভার টাইম করতে হয় আর তারা বলে কাজ নাই।’

কারখানার আরেক শ্রমিক নাজমা আক্তার বলেন, ‘তিন বছর ধরে হেলপার হিসেবে কাজ করি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেছিলাম। ছুটি শেষে সকালে কারখানায় ঢুকছি তারা (কারখানা কর্তৃপক্ষ) আমার আইডি কার্ড নিয়া গেছে। চাকরি নাই কইয়া কইছে মোবাইলে মেসেজ দেখনে গা। বাসায় গিয়া মোবাইলে দেখি কোনো মেসেজ নেই।’

শ্রমিক নেতারা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২০ ধারা অনুসারে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। তবে এ ধরনের ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ২১ ধারা অনুসারে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদেরকে পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন সাপেক্ষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে সেটির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।

আল-মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় কারখানার থেকে ১ হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান কী হবে সেটি নিয়ে ভাবা দরকার ছিল। অন্যান্য সেক্টরে যত সময় যাবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক দক্ষ হয়ে উঠবেন তার চাকরির নিশ্চয়তা তত বেশি। তবে গার্মেন্টস সেক্টরে এর উল্টোটা হয়। এছাড়া যাদের ইনক্রিমেন্ট এবং গ্রেড বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতন বেড়ে যায় তাদের ছাঁটাই করা হয়।

ভিওডি বাংলা/‎এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান ইউনিলিভারের মাসুদ খান
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান ইউনিলিভারের মাসুদ খান
বাংলাদেশসহ ৮৬ দেশে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশসহ ৮৬ দেশে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে জোর দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী
সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে জোর দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী