• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বিদ্যুৎ খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতেই হবে: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দাম সমন্বয়ের পরও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমছে না, আগামী বাজেটে সরকারের প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয় প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানির পর সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিজ উদ্যোগে আপিল করেছে। ফলে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি মূল্যের বাইরে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির আওতাভুক্ত। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের পরও দেশের সিংহভাগ মানুষকে বাড়তি ব্যয়ের চাপ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।’

ডিজেলকে অপরিবর্তিত রেখে জনসাধারণের পরিবহন ও কৃষি খাতকে স্বস্তি দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, যাতায়াত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের দামের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম পরিবর্তন করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের সিংহভাগই (৮২ শতাংশ) ডিজেল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করবে।’

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘সারাবিশ্বে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বাড়লেও সরকার দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। জুন মাসের জন্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তিন ধরনের জ্বালানি- পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা বাড়াতে হলেও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।’

ডিজেলের ব্যবহার ও গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ব্যবহৃত হয়, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৮২ শতাংশ। ট্রাক, গণপরিবহন ও কৃষি সেচে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘পেট্রোল ও অকটেন মূলত বিত্তবানদের ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হয়, যার মাসিক ব্যবহারের হার যথাক্রমে মাত্র ৯ ও ৮ শতাংশ। ফলে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়লেও তা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের যাতায়াত বা নিত্যপণ্যের দামে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।’

অতীত নীতি ও জ্বালানি খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যার কারণে অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার সেই চক্র ভেঙে অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে।

একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার এনার্জি এবং সোলার চালিত বা ইলেকট্রিক স্কুল বাসের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার শুধু ভর্তুকি কমানোর লক্ষ্যেই নয়, বরং সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যবহার করে ফ্যামিলি কার্ড ও টিসিবি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করছে। বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রবীন্দ্র সরোবরে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ ডিএসসিসি প্রশাসকের
রবীন্দ্র সরোবরে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ ডিএসসিসি প্রশাসকের
দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত
দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত
ঢাকা বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল
ঢাকা বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল