দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রথম বড় সমাবেশ

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বহুল আলোচিত বিক্ষোভ কর্মসূচি। বিভিন্ন জাতীয় ও শিক্ষাবিষয়ক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জবাবদিহির দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশকে সংগঠনটির প্রথম বড় মাঠপর্যায়ের আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় সিজেপি সমর্থক ও আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কর্মসূচি পালনের জন্য দিল্লি পুলিশ পূর্বানুমতি দিয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে সংগঠনটি।
আন্দোলনের উদ্যোক্তা ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ভারতে ফিরে আসেন। বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দেন। সেখানে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বই সঙ্গে আনার অনুরোধ করেন এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রথমদিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা করলেও পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে সবাইকে সরাসরি যন্তর মন্তরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে কর্মসূচির মূল কেন্দ্র হিসেবে যন্তর মন্তরই গুরুত্ব পায়।
সিজেপির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-যেমন নিট, সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসি-নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করা হচ্ছে।
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পরিচিত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তিনি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সীমান্ত প্রবেশপথ এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় উঠে আসা সিজেপি এবার প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে জনসমাবেশের আয়োজন করল। ফলে এই কর্মসূচি শুধু আন্দোলনকারীদের জন্য নয়, ভারতের শিক্ষা ও জনআন্দোলনের রাজনীতির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







