কুমিল্লার এসপি প্রত্যাহারের ভুয়া আদেশ ছড়ানোয় গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের প্রত্যাহার সংক্রান্ত ভুয়া আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩১ মে একটি অনলাইন ব্লগসাইট এবং ‘প্রতিবাদী জনতা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের একটি ভুয়া আদেশ অনলাইনে প্রচার করা হয়।
পরবর্তীতে “সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রভাবে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার আদেশ বাতিল” শিরোনামে আরেকটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষসহ কুমিল্লা জেলা পুলিশের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
তদন্তে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও আধুনিক অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ জুন বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সোনিয়া আক্তার (২৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা মহানগরীর শ্রীমন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন পারভেজ (৩২) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস পর্যালোচনায় ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি সরকার ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য অনলাইনে প্রচার করে আসছিলেন।
তবে তদন্তের স্বার্থে অন্যদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার, বাংলাদেশ পুলিশ এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্মানহানি, পুলিশের মনোবল ক্ষুণ্ন এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ডিজিটাল অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল।
গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







