• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

হামলার পরও দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণের পরও ইরান দ্রুতগতিতে তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো পুনরুদ্ধার করেছে। ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সিএনএনের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধারে ইরান বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণযান ব্যবহার করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ ধ্বংস করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা স্থায়ীভাবে দুর্বল করা সম্ভব নয়।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তবে কোনো সামরিক অভিযানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা না থাকলে সেই সাফল্য শেষ পর্যন্ত টেকসই হয় না।’

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৈমুর কাদিশেভ বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ইরানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করা হলেও দেশটি তুলনামূলক কম খরচে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে পুনর্গঠনের প্রমাণ

সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গমুখের মধ্যে, যেগুলো হামলায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তার ৫০টিই ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করেছে ইরান।

ইস্ফাহানের একটি ঘাঁটিতে চারটি সুড়ঙ্গমুখ অকার্যকর করতে অন্তত ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ভরাট করে সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া খামেনি নামের একটি ঘাঁটিতে একাধিক নির্মাণযানকে সুড়ঙ্গ পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের লক্ষ্য ও বর্তমান বাস্তবতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করার কথা বলেছিলেন।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সম্প্রতি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা কমে গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ভিন্ন। তাঁদের মতে, গভীর ভূগর্ভে সংরক্ষিত ইরানের মূল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এখনো অক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন উৎপাদন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা পুনর্গঠনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

ভিওডি বাংলা/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত
প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত
আফগানিস্তানে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ২২
আফগানিস্তানে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ২২
লেবাননের বৃহত্তম শহর দখলে নিতে প্রস্তুত ইসরায়েল
লেবাননের বৃহত্তম শহর দখলে নিতে প্রস্তুত ইসরায়েল