জিয়াউর রহমানের ২০ ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরলেন মাহদী আমিন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলকের কথা উল্লেখ করেন।
‘বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ শীর্ষক ওই পোস্টে মাহদী আমিন দাবি করেন, উল্লেখিত অর্জনগুলোর যেকোনো একটি অর্জনও একজন রাষ্ট্রনায়ককে সফলতার উচ্চ আসনে পৌঁছে দিতে যথেষ্ট। কিন্তু জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রে এসব অবদান একসঙ্গে বিদ্যমান ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্ব ইতিহাসে খুব কম নেতার ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রাম, রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠনে এত বহুমাত্রিক অবদান রেখে গেছেন।
ফেসবুক পোস্টে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়। বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহদী আমিনের তালিকায় আরও রয়েছে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদান, সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়গুলো।
জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সম্প্রসারণে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মাহদী আমিন বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির বিকাশ, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, শিল্পাঞ্চল ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করার বিষয়গুলোও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভিত্তি গঠন, গ্রামীণ উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মাহদী আমিন বলেন, গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি চালু, প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, নারী ও যুব উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিশু একাডেমির কার্যক্রম সম্প্রসারণেও জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে পোস্টে। সেখানে বলা হয়, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার ধারণা বাস্তবায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জন, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়গুলোও উল্লেখ করা হয়।
মাহদী আমিন তাঁর পোস্টের শেষাংশে বলেন, জিয়াউর রহমানের কর্মপরিকল্পনা, রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এসব আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতা বর্তমানেও দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে।
উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদাসম্পন্ন উপদেষ্টা মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







