ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি, জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি তিনি নিজেই জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে।
শুক্রবার (২৯ মে) দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি নিয়ে খুব দ্রুতই আমরা সিচুয়েশন রুমে বৈঠবে বসতে যাচ্ছি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হবে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উভয় দিক থেকেই জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং সেখানে স্থাপিত সব মাইন অপসারণ করতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এতে সেখানে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। তবে নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত চুক্তির আওতায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া কাঠামো নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনো দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত ওই চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর কথাও রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ রয়েছে। তাদের মতে, ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির কিছু বিষয় নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, চুক্তির ভাষা ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
ভিওডি বাংলা/এমএস







