বর্জ্য অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চমক!

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে এবার বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা আগেই পরিষ্কার করা হয়েছে পুরো বন্দরনগরী। সিটি মেয়রের দাবি, জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পরিচ্ছন্নকর্মীদের কাজে বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে।
ঈদের দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) সরেজমিনে দেখা যায়, জমে থাকা পশুর বর্জ্য আগেই সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যদিও রাত ৮টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল সিটি করপোরেশন।
পরে ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডেও দেখা যায় একই চিত্র। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই বর্জ্য সরিয়ে দুর্গন্ধ দূর করতে ছিটানো হয়েছে ব্লিচিং পাউডার। নগরীর আরও কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
নগরবাসী বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। রাস্তাঘাটও পরিষ্কার। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দ্রুত কাজ করছেন। অন্য সময় এখানে অনেক বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়, এবার তা নেই।
এবার দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কারণ জানতে চাইলে পরিচ্ছন্নকর্মীরা বলেন, মেয়রের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার তাদের কাজে গতি এনেছে। এক পরিচ্ছন্নকর্মী বলেন, খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্দেশনা ছিল সন্ধ্যার আগেই শহর পরিষ্কার করতে হবে।
এদিকে, দুপুর ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণের কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকেই মাঠে নামেন সিটি মেয়র। তিনি নিজে ব্লিচিং পাউডার ছিটান এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে স্কেভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য সেবক নিবাস নির্মাণে ৩০৯ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছেন। এতে তাদের মধ্যে অনেক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নকর্মীরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে কাজ করেছেন। বর্ষাকালের জন্য আমরা তাদের রেইনকোট দিচ্ছি। এছাড়া তাদের অন্যান্য প্রয়োজনও পূরণের চেষ্টা করছি।
এবার চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণে কাজ করেছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী। ৫০টি বিশেষ পরিবহনের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে ২০০টির বেশি যানবাহন।
ভিওডি বাংলা/এসআর







