এই ঈদও তাদের জাহাজেই কাটল, কবে ফিরবেন বাড়ি?

ঈদ আনন্দের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের নাবিকরা। ভাসছেন পারস্য উপসাগরের বুকে। ঈদুল ফিতরও তাদের কেটেছে এভাবেই। আশা ছিল কোরবানির ঈদ পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ইরানের অনুমতি না মেলায় এবার ঈদুল আজহার নামাজও তাদের আদায় করতে হলো জাহাজেই।
বুধবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় যখন জাহাজের নেভিগেশন ব্রিজে ঈদের জামাত শুরু হয়, তখন সবার মনেই ছিল এক চাপা কষ্ট।
জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খানের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। মোনাজাতে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি ছিল একটাই আকুতি—‘কবে ফিরব ঘরে?’
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক বেড়াজালে আটকে পড়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে এখনো অবরুদ্ধ আমাদের নাবিকরা। অথচ এই সময়ে অন্যান্য অনেক দেশের জাহাজ ইরানের সবুজসংকেত নিয়ে পার পেয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নাবিকদের কয়েক দফার চেষ্টা সত্ত্বেও মেলেনি পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার ছাড়পত্র।
ঈদের সুস্বাদু খাবার আর কোলাকুলি সাময়িকভাবে নাবিকদের মুখে হাসি ফোটালেও, বুকের ভেতর জমে থাকা মেঘ কাটেনি। লোনা জলের এই বন্দিদশা কত দিন চলবে, তা জানা নেই কারো।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলামের কণ্ঠেও সেই অনিশ্চয়তার সুর, কবে নাগাদ হরমুজ পার হতে পারব, এখনো জানি না। টানা তিন মাস ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হয়ে সাগরে ভাসতে থাকা এই ৩১ জন মানুষ এখন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা গুনছেন। ঘরে ফেরার একেকটি দিন যেন তাদের কাছে একেকটি যুগের সমান। স্বজনদের কাছে ফেরার অপেক্ষায় তারা।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এফএ






