গরু ক্রয়-বিক্রয়ের টাকা আদান-প্রদানে সাবধান হোন

এক লোক কোরবানির উপলক্ষে গরু কিনতে গিয়েছেন। গরুর দরদাম ঠিক হওয়ার পরে বিক্রেতাকে নব্বই হাজার টাকা দিয়েছেন।
বিক্রেতা বললো, 'সে তো টাকা গুনে মিলাতে পারে না। তার ভাইপোকে দিয়ে টাকাটা গুনিয়ে নেবে।'
বিক্রেতা সেই টাকা নিয়ে একটু পাশে গেল। তারপর ভাইপোকে নিয়ে ফিরে আসলো।
ভাইপো গরুর ক্রেতার একেবারে সামনে এসে টাকা গোনা শুরু করল। টাকা গুনতে গুনতেই সেই নব্বই হাজার টাকা থেকে ভাইপো বেশ কিছু এক হাজার টাকার নোট আলাদা করে রাখছিল।
কিন্তু ক্রেতা কিছুই বুঝতে পারছিলেন না।
পরে টাকা গোনা শেষ হলে, সেই ভাইপো বললো, 'এই টাকাগুলো জাল টাকা।'
দেখা গেল, সেখানে ১১টি জাল টাকার নোট। অর্থাৎ ১১টি ১০০০ টাকার নোট জাল নোট। মোট দাঁড়ালো এগার হাজার টাকা।
এবার বিক্রেতা সেই ১১ হাজার টাকা ক্রেতার হাতে দিয়ে বললো, 'স্যার! এই টাকাগুলো জাল। এই টাকা পাল্টে দেন।'
ক্রেতা টাকা হাতে নিয়ে দেখলেন, টাকাগুলো সব নতুন কিন্তু তিনি যে টাকা দিয়েছিলেন, সেই টাকাগুলোর মধ্যে কোন নতুন টাকা ছিলো না। সবই পুরাতন এক হাজার টাকার নোট ছিলো।
কিন্তু এই নতুন নোট আসলো কথা থেকে?
এখন ক্রেতা বলছেন, 'এই টাকা তো আমি দেইনি।'
গরু বিক্রেতা বলছে, 'আপনি দিয়েছেন। আমি গরিব মানুষ। এত টাকা আমি কোথায় পাব?'
এই নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে তুমুল বাক-বিতণ্ডা। পারলে মারামারি শুরু হয়ে যায়।
এরইমধ্যে, হুট করে কয়েকজন এসে গরু বিক্রেতার পক্ষ অবলম্বন শুরু করলো।
শেষে বিক্রেতা বলছে, 'আমি আপনার কাছে গরু বিক্রি করব না। আপনার টাকা আপনি নিয়ে যান।'
এখন টাকা নিতে গেলেও ওই জাল টাকাসহ-ই ফেরত দিচ্ছে।
ক্রেতা তো জাল টাকাসহ ফেরত নিতে চাচ্ছে না।
অর্থাৎ পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, গরু কিনলে নতুন করে ১১ হাজার টাকা দিতে হবে; আর না কিনলে সেই ১১ হাজার টাকার জাল নোটসহ ফেরত নিতে হবে। অর্থাৎ গরু কিনলেও লস; না কিনলেও লস।
পরবর্তীতে নতুন করে ১১ হাজার টাকা দিয়েই গরুটি কিনতে হয়েছে।
সবাই সাবধান হোন। এখানে কে অপরাধী আর কে নিরপরাধ, নিজে বিবেচনায় বুঝে নিন।
লেখক: অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।
ভিওডি বাংলা/এসআর







