দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন সরকার

দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়, আপসহীন ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
ড. মাহদী আমিন বলেন, অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনরাত নজরদারিতে রাখছে। এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর স্থাপনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে।
সীমান্তে বিজিবির শক্ত ও সার্বভৌম অবস্থান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি সংস্কারের ধারক ও বাহক উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো মৌলিক সংস্কার হয়েছে, সবগুলো কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় হয়েছে। ঐতিহ্যগত সেই সংস্কারকে ধারণ করেই ২০১৬ সালে ‘ভিশন ২০৩০’ প্রণয়ন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০২২ সালে ‘২৭ দফা’ প্রণয়ন করেছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০২৩ সালে ‘৩১ দফা’ প্রণয়ন করা হয়েছিল চূড়ান্তভাবে এবং সেই ৩১ দফাতেই কিন্তু সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি রয়েছে। আজকের বাংলাদেশে আমরা যা কিছু নিয়ে আলোচনা করি না কেন, তার প্রায় প্রতিটিই বিএনপির সেই ৩১ দফায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ‘জুলাই সনদে’ উপনীত হয়েছিলাম, যেটি গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দলের সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল। যতটুকু সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল এবং সেই জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল; সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে আমরা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের মানুষের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে এবং যে প্রতিশ্রুতির আলোকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই তা অক্ষরে-অক্ষরে পালনের জন্য দায়বদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বীরদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় রাখতে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







