• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কোরবানির পশুতে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

   ২১ মে ২০২৬, ০১:১৩ পি.এম.
বক্তব্য রাখছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন পশুসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশে কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তাই কোরবানির পশুর জন্য বিদেশ বা সীমান্তপথে আসা পশুর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন নেই।

একই সঙ্গে তিনি কোরবানির পশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, চামড়ার গুণগত মান রক্ষা এবং সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে কোরবানি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় কোরবানির পশুর স্বাস্থ্যসেবা, চামড়া সংরক্ষণ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পশু কোরবানি দেওয়া হয় এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তিনি বলেন, কোরবানির সময় সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো। কারণ মোটা-তাজা গরুর চামড়ার নিচে প্রচুর চর্বি থাকে, যা দক্ষতা ছাড়া আলাদা করা কঠিন। সামান্য ভুলেও চামড়ার মান নষ্ট হয়ে বাজারমূল্য কমে যেতে পারে।

আমিন উর রশিদ বলেন, চামড়ার প্রকৃত মান অনেকাংশে নির্ভর করে পশুর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ওপর। কোনো পশু রোগাক্রান্ত হলে কিংবা মাছি বা পোকামাকড়ের আক্রমণ থাকলে তার প্রভাব চামড়ায় পড়ে। পরে ট্যানারিতে প্রক্রিয়াজাত করার সময় এসব ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে দেখতে ভালো হলেও অনেক চামড়া আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির সময় দক্ষ কসাইয়ের সংকট দেখা দেয়। দেশের সব পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই। এ কারণে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীরা যেহেতু কোরবানি ও জবাই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে চামড়ার মান রক্ষা হবে এবং তারা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও পাবে।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন মাদরাসায় বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করছে। তবে শুধু লবণ দিলেই হবে না, চামড়ার নিচের চর্বি পরিষ্কার করা, সঠিকভাবে ভাঁজ করা এবং সময়মতো সংরক্ষণের বিষয়েও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কোরবানির চামড়ার একটি বড় অংশ ভালো মানের হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া যায় না। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নত মানের চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখা গেলে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির সময় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রক্রিয়াজাত ও বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সচেতনতা জরুরি। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং জনস্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।

ভিওডি বাংলা/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আজ ঈদের ফিরতি যাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু
আজ ঈদের ফিরতি যাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু
সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়নে ২৫০৬ কোটি টাকা অনুমোদন
সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়নে ২৫০৬ কোটি টাকা অনুমোদন
বাংলাদেশ-মরক্কো প্রথম বি টু বি প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
বাংলাদেশ-মরক্কো প্রথম বি টু বি প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন