বিদেশে প্রকাশিত হাসিনার বক্তব্য দেশের গণমাধ্যমে প্রচার কতটা বৈধ!

বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য। তবে সেই বক্তব্য দেশের গণমাধ্যমে প্রচার করা আইনগতভাবে কতটা বৈধ? সম্প্রতি দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের জেরে বিষয়টি নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছে।
আইন কি বলে?
সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ৮(২)-এ এমন তথ্য বা বক্তব্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশের ফলে দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা কিংবা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। একইসঙ্গে জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো কিংবা সহিংসতায় উসকানিমূলক বক্তব্যও এই ধারার আওতায় পড়তে পারে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা অপসারণ বা ব্লক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এছাড়া ধারা ২৬(১)-এ উল্লেখ রয়েছে, কেউ যদি ছদ্ম পরিচয় বা অবৈধ উপায়ে প্রবেশ করে ঘৃণা, জাতিগত বিদ্বেষ বা সহিংসতা উসকে দেয় এমন বক্তব্য প্রকাশ বা প্রচার করে, তাহলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ধারা ২৬(২) অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি একই সঙ্গে জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, অপরাধমূলক বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য সরাসরি দেশের প্রচলিত আইন থেকে অব্যাহতি পায় না। যদি সেই বক্তব্য দেশের ভেতরে পুনঃপ্রচার করা হয় এবং তা আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা বা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগের সুযোগ থাকে। ফলে বিদেশি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হলেও দেশের গণমাধ্যমে তা প্রচারের ক্ষেত্রে আইনি ও নীতিগত সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস







