ঝুঁকি নিয়েছেন আনচেলত্তি, আস্থা রাখবেন নেইমার!

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে তারকা ফুটবলার নেইমারের ফেরা শেষ পর্যন্ত বড় খবর হয়েই এসেছে। তবে কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্তটি যে একেবারে সহজ ছিল না, সেটিও এখন সামনে আসছে। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ইউওএলের দুই সাংবাদিক রদ্রিগো মাত্তোস ও ইগর সিকেইরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দল ঘোষণার একেবারে কাছাকাছি সময় পর্যন্ত আনচেলত্তির হাতে ছিল দুটি তালিকা একটিতে নেইমারের নাম, অন্যটিতে নেইমারের জায়গায় চেলসি তারকা জোয়াও পেদ্রোর নাম।
মূল দোটানা তৈরি হয় নেইমারের শারীরিক অবস্থা ঘিরে। করিতিবার বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচে পায়ের পেশিতে চোট পেয়েছিলেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এরপর তার পায়ের পেছনের পেশিতে পরীক্ষা করায় সান্তোস। সেই পরীক্ষার ফল ও ফিটনেস রিপোর্ট নিয়েই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সতর্ক ছিল ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ।
ইউওএলের প্রতিবেদনে বলা হয়, আনচেলত্তি আগেই নেইমারকে বিশ্বকাপে নেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সান্তোসের হয়ে সাম্প্রতিক চোটের পর আবারও সংশয় তৈরি হয়। সে কারণেই বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে জোয়াও পেদ্রোকে নিয়ে আরেকটি তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত নেইমারের নামই থেকে যায় ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ৩৪ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড তাই খেলতে যাচ্ছেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যেও মতভেদ ছিল। কেউ তার অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচের প্রভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন, কেউ আবার ফিটনেস ও ম্যাচ শার্পনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন।
অন্যদিকে জোয়াও পেদ্রোর বাদ পড়া ব্রাজিল দলে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি। আনচেলত্তির অধীনে তিনি নিয়মিতই বিবেচনায় ছিলেন। আক্রমণের যেকোনো জায়গায় খেলতে পারা ফরোয়ার্ড হিসেবে তার মূল্যও ছিল। কিন্তু নেইমারকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চেলসির এই ফরোয়ার্ড জায়গা হারান।
দল ঘোষণার পর আনচেলত্তি নিজেও বলেছেন, ২৬ জন বেছে নেওয়া কঠিন ছিল। ব্রাজিলে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হওয়ায় বাদ পড়া কয়েকজন খেলোয়াড়ের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাইতো নেইমারের অন্তর্ভুক্তি তাই শুধু তারকা ফেরার গল্প নয়, এটি আনচেলত্তির একটি হিসাবি ঝুঁকিও। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিত্ব ও ম্যাচ বদলে দেওয়ার সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। এখন প্রশ্ন একটাই শেষ মুহূর্তে পাওয়া এই আস্থার জবাব মাঠে দিতে পারবেন তো নেইমার?
ভিওডি বাংলা/এফএ







