৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময় দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার। আড়াই মাসে কিছুটা পরিস্থিতিরি উন্নতি হলেও তা এখনও সন্তোষজনক না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের কাজ করতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম বাড়াতে হবে। জনগণের ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষা, বাল্য বিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্যে ভেজালকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।
জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির সঙ্গে কোনও কিছুতেই আপস করবে না। জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, ১২ ফেব্রুয়ারি তা প্রমাণিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কি হয় তা ১৪, ১৮ ও ২৪ সালে জাতি দেখেছে।
ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থা আপনারা জানেন। তাই দেশকে বন্যা ও খরা থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখবেন। সততা, মেধা ও দক্ষতাই সরকাররে নীতি। এসব দেখেই পদন্নতি বা বদলি করবে সরকার, এটাই বিএনপির নীতি। শুধুমাত্র পদন্নতি বা স্বার্থের জন্য পেশাদারিত্বরের সঙ্গে আপস করলে সাময়িক লাভবান হওয়া গেলেও সার্বিকভাবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের ঘটনা দুর্নীতির দিকে জনপ্রশাসনকে ঠেলে দেয়, নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। এই প্রস্তুতি থাকলে জনপ্রশাসন জনসেবার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। আপনারাই জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রক্ষা করে থাকেন। তাই সরকারও আপনাদের ওপর নির্ভরশীল।’
ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর করে ফেলেছিল দাবি করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ শিক্ষা, দুদক সবই ছিল অকার্যকর, আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভঙ্গুর। যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য জনভোগান্তি হয়েছে, তাও সরকার মোকাবিলা করে যাচ্ছে। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।
সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়
এদিকে, একই অনুষ্ঠানে সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি সরকার যে রকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন।
তিনি আরও বলেন, দেশের যে কোনো স্থানেই যে কোনো সময়ে জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সামগ্রিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার ওপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি, সব দেশই কমবেশি অ্যাফেক্টেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে, বাংলাদেশও হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়, সকলের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ডিসি সম্মেলনে যোগ দিতে সকাল ১০ টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে আসেন তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানা যায়, চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৬ মে। এতে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নেবেন। ডিসিদের কাছ থেকে পাওয়া এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব এবারের সম্মেলনে উপস্থাপন কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির।
ভিওডি বাংলা/এসআর







