• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে ডিসিদের প্রস্তুত থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩ মে ২০২৬, ১২:২২ পি.এম.
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে এই নির্দেশ দেন তিনি।
 
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে নিজেদের প্রস্তুত রাখুন।’
 
সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধংস করা হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার।’
 
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের সব কিছু পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’

সততা-মেধা-দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি

ডিসিদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরো বলেন, সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি ও বদলি করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব—এটি ১২ ফেব্রুয়ারি প্রমাণিত হয়েছে। আর ডিসিদের কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কী হয়, তা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতি দেখেছে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র পদোন্নতি বা স্বার্থের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও সার্বিকভাবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের ঘটনা জনপ্রশাসনকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় এবং তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। এ প্রস্তুতি থাকলে জনসেবার মান বাড়বে। ডিসিরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রক্ষা করেন, তাই সরকারও তাদের ওপর নির্ভরশীল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আড়াই মাসে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো সন্তোষজনক নয়। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার কাজ শুরু করেছে। দেশকে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল, বিচার বিভাগ, শিক্ষা ও দুদক অকার্যকর ছিল, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনভোগান্তি তৈরি হলেও সরকার তা মোকাবিলা করে যাচ্ছে এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।

সন্ধ্যার ৭টার পর মার্কেট-শপিংমলে যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, সেই দিকে জেলা প্রশাসকদের নজর দেয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
 
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার পর সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।
 
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
 
সোমাবর (৪ মে) দ্বিতীয় দিন অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন ডিসিরা।
 
মঙ্গলবার (৫ মে) তৃতীয় দিন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। এদিন নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
 
বুধবার (৬ মে) সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হবে। এদিন রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন।

সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত রয়েছেন। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ওপর জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। সরকারের নীতি উন্নয়ন কর্মসূচি এবং মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনা, নির্দেশনা গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজন করা হয়ে থাকে।

এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মোট অধিবেশন হবে ৩৪টি। তার মধ্যে কার্য অধিবেশন হবে ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। মাঠ প্রশাসন থেকে এবার ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তার মধ্যে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৪৯৮টি। সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সম্পর্কিত। এই বিভাগের জন্য ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশে ফিরছে লিমন, অপেক্ষায় নাহিদার মরদেহ
ফ্লোরিডায় দুই শিক্ষার্থী খুন দেশে ফিরছে লিমন, অপেক্ষায় নাহিদার মরদেহ
আজ ডিসি সম্মেলন শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আজ ডিসি সম্মেলন শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আজ শপথ নেবেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি
আজ শপথ নেবেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি