হাম আক্রান্তদের নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে হামে আক্রান্তদের নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। টিকাবিহীন জনগোষ্ঠীর কারণেই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে দেশের সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ শিশু কোনো টিকাই নেয়নি। এছাড়া ১৪ শতাংশ শিশু মাত্র এক ডোজ এমআর টিকা গ্রহণ করেছে। টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো শিশুকেই টিকার বাইরে রাখা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে দেশে হাম সংক্রমণ যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, তা শিগগিরই কমে আসবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে। ইতোমধ্যে ৩০টি উপজেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এসব এলাকায় সংক্রমণ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে বলেও তিনি জানান।
হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব হাসপাতালে আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা রয়েছে, ফলে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় স্থানান্তর রোগীর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য নতুন টিকা দেশে আসবে বলে জানান তিনি। এতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







