খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে- আবদুস সালাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেছেন, ‘খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। আমি বিশ্বাস করি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করতে হবে। বিগত বেশকয়েকটি বছর শিক্ষাঙ্গন কিংবা সংস্কৃতি অঙ্গন, বিচারালয় এমনকি ব্যবসা যাই বলি না কেন; এমন কোনো অঙ্গন নাই যেখানে ধস নামেনি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বি-জাতীয় ধারণা অনেকটাই চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ধানমিন্ড’র আলী হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সংস্কৃতি-শিক্ষা আমাদের গর্ব। এখন ফেব্রুয়ারি মাস; আমরা সবাই জানি এই মাসে ভাষা শহীদ যারা রক্ত দিয়েছিল; তাদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করি। ২১ শে ফেব্রুয়ারি দিনটি পালন করার মধ্যে দিয়ে আমাদের সকলের চেতনায় আসে; আমরা ভাইয়েরা সেদিন কেন রক্ত দিয়েছিল। একটা দেশের ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য রক্ত দিতে হয়; পৃথিবীতে এমন দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা ভাষার জন্য লড়াই করেছে; আমরা লড়াই করেছি। আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টি আজকে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আজকের শিক্ষার্থীদেরকে ভবিষ্যত ভাবনায় প্রস্তুত করতে হবে। শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্য করে আবদুস সালাম বলেন, প্রতিটি স্কুল, কলেজে নিয়মিত খেলাধুলা হওয়া উচিৎ। এতে করে তরুণ সমাজ মাদক থেকে দূরে থাকবে। শিক্ষকতা চাকুরি নয়। এটা সেবামূলক কাজ। এই সেবায় শুধু বিদ্যালয় নয়; দেশ ও সমাজ উপকৃত হয়। আপনারা বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কিভাবে বাড়ানো যায় তার বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। শিক্ষার মান ভালো হলে সরকারও নজর দেবে। আর আগামী নির্বাচনে যদি আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে অবশ্যই আপনাদের দাবি অনুযায়ী এই বিদ্যালয় সরকারিকরণে চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি; ছাত্র রাজনীতি করে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি; আজকে এই পর্যায়ে আছি।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সুনাম ছিলো। এখন এশিয়ায় নয়; এই উপমহাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জড়িপেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ নিশ্চয়ই আমরা শিক্ষার মান বাড়াতে পারিনি।
তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, যে মাদক গ্রহণ করে সে কখনো সুস্থ থাকতে পারে না। সুস্থ থাকতে হলে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। এলাকার পরিবেশ ভালো রাখতে হলে মাদকমুক্ত পরিবেশ দরকার। মাদক থেকে মুক্ত রাখতে হলে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে হবে। খেলাধুলার জন্য মাঠে আসতে হবে। যেখানে যতটুকু খোলা জায়গা আছে সেখানেই অন্তত খেলাধুলার চেষ্টা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেয় অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন বিএনপির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচপি







